জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

হাম পরিস্থিতি: একদিনে ৭ মৃত্যু, শনাক্ত ১২২

দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১২২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব তৈরি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হাম আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৬৭১ জন। ফলে হাম ও এর উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ২৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগ, যেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ৫৪ জন, বরিশালে ৪৩ জন, রাজশাহীতে ৮৯ জন, খুলনায় ২৯ জন এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৮৬৮ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৮৩১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে রোগীর চাপ বাড়ায় বিভিন্ন হাসপাতালের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে। এ বিভাগে ৩১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৫ জন, বরিশালে ১২৮ জন, সিলেটে ৫৪ জন, ময়মনসিংহে ৫৩ জন, খুলনায় ৪৭ জন, রাজশাহীতে ২৪ জন এবং রংপুর বিভাগে ১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

দেশে এ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ২৭ জনে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯২ হাজার ৩৮৩ জন। তবে নতুন রোগী শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসার সংখ্যা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এ ছাড়া নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৭৩৫ জন।

বিশেষজ্ঞরা সাধারণত হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Tags :

SHOWRAV BISHWAS

সর্বশেষ খবর