জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ফেসবুক ছাড়লেন আসিফ আকবর, জানালেন কারণ

দীর্ঘদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার পর ফেসবুক থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ইতোমধ্যে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভ করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে আয়োজিত একটি সিনেমার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন এই শিল্পী।

হঠাৎ করে ফেসবুক থেকে সরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে আসিফ আকবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির বর্তমান পরিবেশ নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানান। তার ভাষায়, একসময় ফেসবুক মানুষের সঙ্গে মানুষের সহজ যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন সেখানে ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রচার, পণ্য কেনাবেচা, নানা ধরনের প্রচারণা এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে এসব পরিবর্তনের মধ্যে তার সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সংবাদ, বক্তব্য বা মন্তব্য প্রকাশের পর সেটি সত্য, আংশিক সত্য নাকি পুরোপুরি গুজব—তা দ্রুত যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই ছড়িয়ে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যে তা বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। পরে সেটি ভুল প্রমাণিত হলেও এরই মধ্যে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন আসিফ আকবর। তিনি জানান, তার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অনেক বক্তব্য ও মন্তব্য প্রচারিত হয়েছে, যেগুলো তিনি কখনোই দেননি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পরিষ্কার করতে হয়েছে যে প্রচারিত কথার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

তার মতে, বর্তমানে কোনো খবর বা বক্তব্য দেখার পর সেটি বিশ্বাসযোগ্য কি না, তা বোঝার জন্য আলাদা করে যাচাই করার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা তারকার নামে বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। কারণ একজন জনপ্রিয় শিল্পীর নামে প্রকাশিত একটি মন্তব্য মুহূর্তেই বহু মানুষের নজরে আসতে পারে এবং সেটিকে সত্য ধরে নিয়ে অনেকে নিজেদের মতামতও তৈরি করতে পারেন।

আসিফ আকবরের বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে। কোনো ব্যক্তির নামে বক্তব্য, মন্তব্য কিংবা কোনো ঘটনার খবর প্রকাশের আগে সেটির উৎস ও সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কারণ ভুল তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে শুধু পরে সংশোধনী দেওয়াই যথেষ্ট নয়; প্রথমবার তথ্য প্রকাশের সময়ই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি সংবাদ, বিনোদন, ব্যবসা, প্রচারণা এবং মতামত প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও এর ব্যবহার বেড়েছে। ফলে একই সঙ্গে বেড়েছে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ। এর ইতিবাচক দিক যেমন রয়েছে, তেমনি যাচাইহীন তথ্য, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং কারও নামে মনগড়া মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

বিশেষ করে তারকাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও প্রকট হতে পারে। জনপ্রিয় ব্যক্তিদের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি থাকায় তাদের নামে তৈরি কোনো ভুল তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সত্যতা পরিষ্কার করলেও প্রাথমিকভাবে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের প্রভাব অনেকের মনে থেকে যেতে পারে।

এই বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরেই ফেসবুক থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আসিফ আকবর। তার এই সিদ্ধান্তকে মূলত ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সচেতন অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে ফেসবুক ছেড়ে দিলেও সংগীত থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না আসিফ আকবর। গান রেকর্ডিং ও অন্যান্য সংগীত কার্যক্রম নিয়ে তিনি আগের মতোই ব্যস্ত রয়েছেন। বিভিন্ন মঞ্চ অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দেওয়া এই শিল্পীর ক্ষেত্রে তাই ফেসবুক থেকে সরে দাঁড়ানো সংগীতজগত থেকে বিরতি নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিবর্তিত পরিবেশ এবং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নিজের অবস্থান থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফেসবুকের বাইরে থেকেও তার সংগীতচর্চা এবং শ্রোতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে—এমনটাই জানিয়েছেন শিল্পী।

Tags :

SHOWRAV BISHWAS

সর্বশেষ খবর