জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

তাজউদ্দীনের ছবি অপসারণ ক্ষিপ্ত সোহেল তাজ জানতে চাইলেন বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ লালন করে কি না

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। এ ঘটনায় একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করে বিএনপি সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন, দলটি এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে কি না এবং তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সম্মান ও লালন করে কি না।

তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধসংলগ্ন জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ম্যুরালাকৃতির ছবি অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি অনুদানে নির্মিত ওই মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে ছবিগুলো স্থাপন করা ছিল।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য, প্রায় এক মাস আগে মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের নির্দেশে ছবিগুলো ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান।

শুক্রবার মধ্যরাতে তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ শেয়ার করে বিএনপি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিএনপি সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে কিনা। তাদের স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সম্মান এবং লালন করে কিনা।’

সোহেল তাজের এই বক্তব্যের পর মাধবপুরে জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দীন আহমদের ছবি অপসারণের ঘটনায় তাঁর ছেলে সরাসরি সরকারের কাছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ: আলোচনা না করার অভিযোগ

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার ছবি ছিল। কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ছবিগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতারাও ছবি অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের স্মৃতি ও অবদানকে ধারণ করে স্থাপিত ছবি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

মাধবপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. অলিদ মিয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশ্ন, একটি মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার ছবি কীভাবে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হিসেবে বিবেচিত হলো। একই সঙ্গে কোন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেটিও প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের অভিযোগ, ছবিগুলো অপসারণের আগে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাই অপসারণের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ছবিগুলো আগের জায়গায় পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মাধবপুরের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদের পাশাপাশি সোহেল তাজের বক্তব্যে বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে। এখন ছবিগুলো কেন সরানো হয়েছিল, তৎকালীন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী ছিল এবং সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটিই সামনে এসেছে মূল প্রশ্ন হিসেবে।

Tags :

SHOWRAV BISHWAS

সর্বশেষ খবর