জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

পটুয়াখালীতে গাঁজাসহ আটক ৩ মাদক কারবারিকে কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হক। মাদক নির্মূলের এই বিশেষ অভিযানে পটুয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। যৌথ বাহিনীর এই তৎপরতায় মাদক চক্রের তিন সদস্যকে মাদকসহ হাতেনাতে ধরে ফেলা সম্ভব হয়।

অভিযানের মূল বিবরণ, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় এবং আইনি সাজার বিস্তারিত তথ্য একনজরে নিচে তুলে ধরা হলো:

গলাচিপা মাদকবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিবরণী

ক্র. নংবিষয়ের বিবরণতথ্য ও পরিসংখ্যান
অভিযানের স্থানগলাচিপা উপজেলা, পটুয়াখালী
অভিযানের তারিখ ও সময়সোমবার (৬ জুলাই), বিকেল ৫:০০ টা
অভিযানের নেতৃত্বদানকারীআবুজর মো. ইজাজুল হক (ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট)
সহযোগিতাকারী সংস্থাপটুয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ বাহিনী
জব্দকৃত মাদকদ্রব্যগাঁজা (নির্দিষ্ট পরিমাণ)
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ১লালু হাওলাদার (বয়স: ৩২ বছর)
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ২মাহিন (বয়স: ২২ বছর)
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ৩মনিরুজ্জামান (বয়স: ৫২ বছর)
প্রযোজ্য আইনি ধারামাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা
১০ঘোষিত সাজার পরিমাণ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা অর্থদণ্ড (প্রত্যেককে)

অভিযান শেষে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। সেখানে আটককৃতদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়। আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হক দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা ঘোষণার পর জব্দকৃত গাঁজা ও মাদক সামগ্রী আইনি বিধিমালা অনুযায়ী সবার সামনে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মাদকের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গলাচিপা উপজেলাকে পুরোপুরি মাদক মুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের ঝটিকা ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কেবল আইন প্রয়োগ বা প্রশাসনের একার পক্ষে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সমাজের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সহযোগিতা, পারিবারিক সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর