খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:৮ এএম

শুরুর দিকে কিছুটা ধৈর্যের পরীক্ষা। এরপর একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা। শেষ বাঁশি বাজার আগেই জয় নিশ্চিত করে আত্মবিশ্বাসী উদ্যাপন। লস অ্যাঞ্জেলেসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের পারফরম্যান্স যেন এমনই একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল প্রদর্শনী। অপেক্ষার পর গোলের দেখা মিলতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে স্পেন। মাঝমাঠে ছোট ছোট পাসের সমন্বয়, দুই প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ এবং প্রতিপক্ষের ওপর নিরবচ্ছিন্ন চাপ সৃষ্টি—সব মিলিয়ে স্পেন নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দেই খেলতে থাকে। তবে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ শুরুতে বেশ সংগঠিত ছিল। ফলে স্পেন একাধিক আক্রমণ গড়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না।
প্রথমার্ধে কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তের নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলশূন্যই থাকে স্কোরলাইন। অস্ট্রিয়াও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু স্পেনের রক্ষণভাগ তাদের খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। ফলে ম্যাচ যত এগিয়েছে, স্পেনের আধিপত্য ততই স্পষ্ট হয়েছে।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় স্পেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকলে অবশেষে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। গোলের জট খুলতেই আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় স্প্যানিশ ফুটবলারদের। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা।
স্পেনের জয়ের নায়ক ছিলেন ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল। দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তিনি জোড়া গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার দুটি গোলই স্পেনকে মানসিকভাবে আরও এগিয়ে দেয় এবং অস্ট্রিয়ার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা কার্যত শেষ করে দেয়। দলের তৃতীয় গোলটি স্পেনের আধিপত্যকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে এবং ম্যাচের ফল প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
পুরো ম্যাচজুড়েই বল দখল, পাসের সাফল্য এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে স্পেন ছিল অনেক বেশি কার্যকর। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে তারা অস্ট্রিয়াকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলার সুযোগ খুব কমই দিয়েছে। রক্ষণভাগও ছিল যথেষ্ট শৃঙ্খলাবদ্ধ, ফলে প্রতিপক্ষ উল্লেখযোগ্য কোনো গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
এই জয়ের ফলে স্পেন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। নকআউট পর্বের আগে এমন একতরফা জয় দলটির মনোবল আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা স্পেনকে শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর কাতারে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার জন্য এই হার ছিল হতাশার। শুরুতে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পুরো ম্যাচে স্পেনের গতি, কৌশল ও বলের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি তারা। গোল হজমের পর দলটি আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হার মেনে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্য পূরণ করে এখন আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় স্পেন। তবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে, ছন্দে থাকা স্পেনকে থামানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
মন্তব্য