জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে বাংলাদেশের রক্ষণই মূল ভাবনা

এশিয়ান কাপের মঞ্চে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে রক্ষণভাগকে দৃঢ় রাখা এবং গোল খাওয়ার সংখ্যা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা। ঘরোয়া ফুটবলে দারুণ পারফরম্যান্স দেখালেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের শক্তির সঙ্গে তাল মেলানোই এখন মূল চিন্তার বিষয়।

সম্প্রতি শেষ হওয়া নারী ফুটবল লিগে রাজশাহী স্টারসের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে ক্লিনশিট রেখে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে চিত্র ছিল ভিন্ন। শেষ চারটি প্রীতি ম্যাচে জয়হীন বাংলাদেশ দল হজম করেছে মোট ১১ গোল, যা রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে, এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষগুলো প্রস্তুতিতে ছিল বেশ আক্রমণাত্মক ও সফল। বিশেষ করে চীন ও উত্তর কোরিয়া ঐতিহ্যগতভাবেই গোলবন্যা ঘটানো দল হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসও সেই কথাই বলছে।

এশিয়ান কাপে গোল পরিসংখ্যান (নির্বাচিত দল)

দলম্যাচ সংখ্যামোট গোলগড়ে গোল (প্রতি ম্যাচে)
চীন৭৫৩৬৭৪.৮৯
উত্তর কোরিয়া৫৩২৪১৪.৫৪
উজবেকিস্তান১৬১৫০.৯৪

২০২২ সালের আসরে চীন গ্রুপপর্বের দুই ম্যাচেই ১১ গোল করে কোনো গোল না খাওয়ার নজির গড়েছিল। উত্তর কোরিয়াও এশিয়ান কাপে নিয়মিত শক্তিশালী আক্রমণভাগের জন্য পরিচিত। যদিও উজবেকিস্তানের রেকর্ড তুলনামূলক দুর্বল, তবুও সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচে তারাও বড় জয় পেয়েছে।

বাংলাদেশ নারী দল আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ২৪টি দেশের বিপক্ষে ৭৫ ম্যাচ খেলে করেছে ১৪৯ গোল এবং হজমও করেছে সমান সংখ্যক গোল। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই দলটির ভারসাম্য থাকলেও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সেই ভারসাম্য টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

ফিফা র‍্যাঙ্কিং তুলনা

দলর‍্যাঙ্কিংবাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে
বাংলাদেশ১১২
চীন১৭৯৫ ধাপ
উত্তর কোরিয়া১০৩ ধাপ
উজবেকিস্তান৪৯৬৩ ধাপ

অভিজ্ঞতা ও অর্জনের দিক থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলগুলোর পার্থক্য স্পষ্ট। এটি বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান কাপ অংশগ্রহণ, যেখানে চীন ৯ বার এবং উত্তর কোরিয়া ৩ বার শিরোপা জিতেছে।

দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম স্বীকার করেছেন, চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে আগে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকাটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি আশাবাদী, দল অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করবে। অন্যদিকে আফঈদা খন্দকার রক্ষণ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে লড়াই করার মানসিকতার ওপর জোর দিয়েছেন।

কোচ পিটার বাটলারও রক্ষণভাগ নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। তার মতে, শেষ কয়েক দিনে রক্ষণ আরও সুসংগঠিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ ও আন্তর্জাতিক ক্যাম্পের অভাব দলটির প্রস্তুতিকে কিছুটা সীমিত করেছে।

১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে, ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এবং ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে সম্মানজনক লড়াই করা। গোল কম খাওয়াই হতে পারে তাদের সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News