নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় সাঁতার শিখতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে রমজান হাওলাদার (১১) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চোখের আড়ালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রমজান হাওলাদার স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল হাওলাদারের ছেলে। সে মতইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও স্কুল শেষে বিকেলে বাড়ি ফেরে রমজান। কিছুক্ষণ পর সে তার মাকে জানায় যে, পুকুরে গিয়ে সাঁতার শিখবে। সাঁতার শেখার জন্য সে সঙ্গে দুটি প্লাস্টিকের বোতলও নিয়ে বের হয়, যা গ্রামীণ এলাকায় অনেকেই ভেসে থাকার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।
নিহতের বাবা রাসেল হাওলাদার জানান, ছেলের সঙ্গে পুকুরে যাওয়ার কথা থাকলেও ঠিক সেই সময় একটি ফোনকল আসায় রমজানের মা ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি ছেলের সঙ্গে যেতে পারেননি। সুযোগ পেয়ে রমজান একাই পুকুরের দিকে চলে যায়।
পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পুকুরে একা সাঁতার শেখার সময় অসাবধানতাবশত রমজান পানিতে ডুবে যায়। কিছুক্ষণ পর তার মা পুকুরঘাটে গিয়ে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুকুরে অনুসন্ধান চালিয়ে রমজানকে উদ্ধার করা হয়। তবে তাকে পানির নিচ থেকে তোলার আগেই অনেক দেরি হয়ে যায়। উদ্ধার করার সময় তার আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। স্বজনদের কান্নায় ঘটনাস্থলের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন।
খবর পেয়ে সেনবাগ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। সেনবাগ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে পুকুর, খাল ও জলাশয়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, শিশুদের সাঁতার শেখানোর সময় অবশ্যই অভিজ্ঞ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সরাসরি তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলাশয়ের পাশে শিশুদের একা যেতে না দেওয়া এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
রমজান হাওলাদারের মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, সামান্য অসাবধানতা বা নজরদারির ঘাটতি কখনো কখনো একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঘটনাটির পর স্থানীয়দের মধ্যেও শিশুদের জলাশয়ের আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।









