খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ১১:২১ পিএম

সৌদি আরবে কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট বা ইকামা (রুখসা আমল) ইস্যু ও নবায়ন নিয়ে একটি বড় ধরনের বিশেষ সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার। সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের এই সুযোগটি দ্রুত লুফে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক প্রবাসী কর্মী, যারা দীর্ঘদিন ধরে নানা আইনি জটিলতায় ভুগছিলেন, তারা এখন বৈধভাবে সৌদি আরবে তাদের কর্মজীবন টিকিয়ে রাখার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মূলত দুই ধরনের প্রবাসী কর্মী এই বিশেষ নির্দেশনার আওতায় সুবিধা পাবেন। প্রথমত, যেসব প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১২ মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, তারা এই সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয়ত, যেসব কর্মী সৌদি আরবে নতুন কোনো চাকরিতে যোগদান করেছেন কিংবা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সফার (কফালা) হয়েছেন, কিন্তু ছয় মাস পার হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ার্ক পারমিট হাতে পাননি, তারাও এর আওতাভুক্ত হবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই দুই ক্যাটাগরির কর্মীদের চলতি পঞ্জিকা বছরের (২০২৬ সাল) মধ্যেই তাদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু কিংবা নবায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। বছরের শেষভাগের এই সময়টুকুকে একটি বিশেষ সুযোগ বা ডেডলাইন হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটির সরকার।
সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, দেশটির অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে আইন ও বিধি মেনে চলার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত নিয়োগকর্তা এবং বিদেশি কর্মীদের মধ্যকার পারস্পরিক চুক্তিভিত্তিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং শ্রম আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়াতেই এই কঠোর অথচ সুবিধাজনক সিদ্ধান্তটি নেওয়া হলো। অনেক প্রতিষ্ঠান এবং কর্মী ইতিমধ্যেই নিজ উদ্যোগে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু ও নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করায় সরকার এই প্রক্রিয়াটিকে পুরোপুরি শেষ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিল।
সৌদি সরকারের এই মন্ত্রণালয় দেশের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কপিল (নিয়োগকর্তা) এবং সাধারণ প্রবাসী কর্মীদের এই নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে এবং ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জন্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। দূতাবাস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি কোনো কর্মী বা প্রতিষ্ঠান এই সময়ের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট সচল না করে, তবে চলতি বছর শেষ হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী জরিমানা ও দেশছাড়া করাসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য