খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ৫:২৮ পিএম

বর্ষার মৌসুমে দেশের আবহাওয়া প্রায়শই রূপ বদলাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের পর বা সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস জানানো হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে, দেশের মোট নয়টি জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে তীব্র গতিতে বাতাস বয়ে যেতে পারে। এই জেলাগুলো হলো—ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সাথে তীব্র বজ্রপাত এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
হঠাৎ তৈরি হওয়া এই বৈরি আবহাওয়ার কারণে নদী উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে যেকোনো ধরনের নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে এই নয়টি জেলার নদী অববাহিকা এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ছোট লঞ্চ, ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তীরের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঝনদীতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে।
সাধারণত বছরের এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এমন ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যায়। নদীবন্দরগুলোতে আকস্মিক দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ-কে সতর্ক অবস্থানে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদেরও মেঘের গর্জন বা ঝড়ের লক্ষণ দেখলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ সন্ধ্যার পর আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে কিংবা ঝড়ের গতিবেগ কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য