
ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ আগামী ৩০ জুন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এ রায় শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতারও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মামলার প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার সময়ের সঙ্গে যুক্ত। ওই সময়ে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসে।
ইনুর পক্ষ থেকে দাখিল করা অব্যাহতির আবেদনপত্রে বলা হয়, ওই আন্দোলন শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা সহিংসতা ও সশস্ত্র রূপ নেয়। হাসানুল হক ইনুর আইনজিবিগনেরণ পক্ষ দাবি করে, এতে রাজনৈতিক ও উগ্র সংগঠনের অনুপ্রবেশ ঘটে এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তারা আরও যুক্তি দেয়, ইনু তখন কোনো সরকারি বা প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন না এবং ঘটনাস্থল কুষ্টিয়াতেও তার উপস্থিতির প্রমাণ নেই।
হাসানুল হক ইনুর আইনজিবি গণ টেলিফোন কথোপকথন ও ডিজিটাল রেকর্ডের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। তাদের দাবি, এসব আলাপের সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে অসংগতি রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ঘটনার তারিখের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না। পাশাপাশি আন্দোলনের সময় ইনুর প্রকাশ্য বক্তব্যে সংযম ও আলোচনার আহ্বান ছিল বলেও তারা উল্লেখ করে।
তবে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ট্রাইব্যুনাল সেই অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তিনি নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অংশ হিসেবে সহিংস ঘটনার পরিকল্পনা ও উসকানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে হত্যা, অমানবিক আচরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, কিছু টেলিফোন কথোপকথন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে, আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক অনুমোদন ছিল এবং সেই প্রক্রিয়ায় প্রাণহানি ঘটে। এই মামলায় মোট আটটি অভিযোগ বিচারাধীন।
অন্যদিকে, ইনুর সমর্থকদের বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অতিরঞ্জিত এবং প্রমাণের চেয়ে অনুমাননির্ভর উপাদান বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। তাদের মতে, বিচার প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার। ফলে পুরোনো রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে আনা নয়, বরং ২০২৪ সালের নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোর প্রমাণই এখানে মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত বলে পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে প্রমাণ, সাক্ষ্য ও আইনি মানদণ্ডের ওপর। রাজনৈতিক পরিচয় বা জনপ্রিয়তা এখানে কোনোভাবেই নির্ধারক হতে পারে না।
সব মিলিয়ে ৩০ জুনের রায় শুধু ইনুর ভবিষ্যৎ নয়, দেশের বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও আস্থা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
> বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা মঙ্গলবার, দাফন বনানীতে
> ‘সোনার তরী’র হিপহপ রূপান্তর, কোক স্টুডিওর নতুন গানে তীব্র বিতর্ক
> বড় হওয়ার চেয়ে ছোট থাকাই ভালো—শিশুমনেই জীবন কাটিয়েছেন মুস্তাফা মনোয়ার
> দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একদিনে পাঁচজনের মৃত্যু
> আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে কেপ ভার্দে অধিনায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
> যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপের ফ্যান জোনে বন্দুক হামলা, নিহত ১
> সূর্যবংশীকে বসিয়ে ভারতের লজ্জাজনক পরাজয়, ক্রিকেটমহলে সমালোচনার ঝড়
> সবাইকে চমকে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বেন স্টোকসের হঠাৎ অবসর
> বগুড়ায় বিস্ফোরক মামলায় ডা. মিশুরের জামিন
> জাপান বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, সতর্কবার্তা ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তির
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> স্মরণ আঁধারের আলোকবর্তিকা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম
> হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় আগামী ৩০ জুন
> কার্বন ক্রেডিট বিক্রি: ২৫ কোটি গাছ রোপণে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের আয়ের সম্ভাবনা
> লোকসান সইতে না পেরে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ
> বীমা খাতে এআই ব্যবহারে নজরদারি বাড়াচ্ছে ভারত
> জাপানের বিপক্ষে আজ নেইমার কত মিনিট খেলবেন, জানালেন আনচেলত্তি
> পুতুলনাট্যে মুস্তাফা মনোয়ারের আজীবন সাধনা
> প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক সংকটে সরকারের আপাত সমাধান পরিকল্পনা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য