খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৫:২৪ পিএম

(২৯ জুন ১৯৩৬ – ২৯ আগস্ট ২০২১)
বাংলা সাহিত্যের প্রকৃতিপ্রেমী, রোমান্টিক এবং অনন্য কথাশিল্পী বুদ্ধদেব গুহ-এর জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও স্মরণ।
১৯৩৬ সালের ২৯ জুন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার রংপুরে তাঁর জন্ম। দেশভাগের পর তিনি কলকাতায় স্থায়ী হলেও জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ আজীবন অটুট ছিল। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনা শেষে তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু তাঁর প্রকৃত পরিচয়—তিনি বাংলা সাহিত্যের এক অসামান্য কথাশিল্পী।
বাংলা সাহিত্যে বন, অরণ্য, পাহাড়, নদী, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতিকে এত গভীর মমতা, রোমাঞ্চ ও সৌন্দর্যের সঙ্গে খুব কম লেখকই তুলে ধরতে পেরেছেন। তাঁর লেখায় প্রকৃতি কখনো শুধু পটভূমি নয়, বরং এক জীবন্ত চরিত্র। বন-জঙ্গল ও অরণ্যের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নিবিড় পরিচয় তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে এক অনন্য বাস্তবতা।
তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘জঙ্গলমহল’। এরপর একের পর এক উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। ‘মাধুকরী’ তাঁর সর্বাধিক আলোচিত ও জনপ্রিয় উপন্যাসগুলোর একটি, যা দীর্ঘদিন বেস্টসেলার হিসেবে পাঠকের হৃদয় জয় করেছে। এছাড়া কোয়েলের কাছে, বাবলি, একটু উষ্ণতার জন্য, হলুদ বসন্ত, চাপরাস, বনবিবির বনে প্রভৃতি রচনাও সমানভাবে সমাদৃত।
শিশু-কিশোর সাহিত্যে তাঁর সৃষ্টি ঋজুদা ও রুদ্র চরিত্র বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। প্রকৃতি, অভিযান, সাহস ও মানবিকতার অপূর্ব সমন্বয়ে এই চরিত্রগুলো আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান জনপ্রিয়।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী। তাঁর সহধর্মিণী প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ঋতু গুহ। বুদ্ধদেব গুহ নিজেও রবীন্দ্রসংগীত ও পুরাতনী টপ্পা গানে দক্ষ ছিলেন। দেশ-বিদেশ ভ্রমণের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যকে করেছে আরও বৈচিত্র্যময় ও জীবনঘনিষ্ঠ।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আনন্দ পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। তাঁর একাধিক গল্প ও উপন্যাস চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে রূপায়িত হয়েছে।
২০২১ সালের ২৯ আগস্ট কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্টি আজও পাঠকের হৃদয়ে সমানভাবে জীবন্ত। যতদিন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বেঁচে থাকবে, ততদিন বুদ্ধদেব গুহ তাঁর অরণ্যের সুবাস, প্রকৃতির মুগ্ধতা এবং গভীর মানবিকতার মধ্য দিয়ে পাঠকের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবেন।
এই গুণী সাহিত্যিকের জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁর স্মৃতি ও সাহিত্যকীর্তি চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকুক।
মন্তব্য