জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ভেনেজুয়েলায় ধসে পড়া ভবনে গোঙানি, খালি হাতেই উদ্ধারচেষ্টা স্বজনদের

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টা। চারদিকে ধ্বংস আর হাহাকারের মাঝে হঠাৎ করেই জেগে উঠেছে জীবনের এক ক্ষীণ আশা। ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের নিচ থেকে এক যুবকের গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকেই কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই, কেবল নিজেদের হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনকে বাঁচানোর এক আবেগঘন ও মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আটকে পড়া ওই যুবকের নাম কার্লোস এদোয়ার্দো। ৩১ বছর বয়সী এই যুবক ভূমিকম্পের সময় ভবনের ভেতরেই ছিলেন এবং ধসে পড়া কংক্রিটের নিচে চাপা পড়েন। গত দুদিন ধরে কার্লোসের পরিবার দিন-রাত এক করে তাকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। নিখোঁজ স্বজনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা যখন প্রায় ক্ষীণ হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই শনিবার আসে সেই অলৌকিক মুহূর্ত।

কংক্রিটের চাঁইয়ের গভীর থেকে কার্লোস সামান্য শব্দ করতে সক্ষম হন। তবে এত সময় ধরে আটকে থাকায় তিনি কোনো স্পষ্ট কথা বলতে পারছিলেন না। কার্লোসের এক চাচাতো ভাই অত্যন্ত আবেগ তাড়িত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে আমরা ভবনের নিচের দিক থেকে কার্লোসের গোঙানির শব্দ শুনতে পাই। সে কোনো কথা বলতে পারেনি, শরীর ভেঙে পড়ায় শুধু একটু আওয়াজ করেছে। আমরা এখন তীব্র উৎকণ্ঠা আর ভয় নিয়ে অপেক্ষা করছি। ওই একবার শব্দ করার পর আমরা অনেক ডেকেছি, কিন্তু ভেতর থেকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।”

পরিবারের পক্ষ থেকে ভেতর থেকে শব্দ আসার কথা জানানোর পর সেখানে দ্রুত ছুটে আসে একটি স্প্যানিশ উদ্ধারকারী দল। আন্তর্জাতিক এই উদ্ধারকর্মীরা তাদের সাথে থাকা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দিয়ে পুরো ধসে পড়া ভবনটিতে তল্লাশি চালান। আধুনিক প্রযুক্তির সেন্সর ও কুকুর দিয়ে দীর্ঘক্ষণ খোঁজার পরও উদ্ধারকারী দলটি ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের নিশ্চিত কোনো লক্ষণ বা স্পন্দন শনাক্ত করতে পারেনি। একপর্যায়ে কোনো আশাজনক ফল না পেয়ে স্প্যানিশ দলটি ওই স্থান ত্যাগ করে অন্য এলাকায় চলে যায়।

পেশাদার উদ্ধারকারীরা হাল ছেড়ে চলে গেলেও কার্লোসের আত্মীয়রা তা মানতে নারাজ। তাঁরা চোখের সামনে নিজেদের সন্তানকে এভাবে মরতে দিতে পারেন না। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় যন্ত্রপাতির সহায়তা না পেয়ে তাঁরা নিজেদের খালি হাত দিয়েই কংক্রিটের ভারী টুকরো, ইটের কণা আর রড সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আঙুল ফেটে রক্ত বের হওয়া কিংবা ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে পড়ার তোয়াক্কা না করে স্বজনেরা অবিরাম লড়াই করছেন। অলৌকিকভাবে কার্লোসকে এই ধ্বংসস্তূপের গভীর থেকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় টেনে বের করে আনতে পারবেন—এই একটিমাত্র বিশ্বাসই এখন চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে এই পরিবারটির। পুরো এলাকার মানুষ এখন এই যুবকের জীবিত ফিরে আসার প্রার্থনায় প্রহর গুনছেন।

Tags :

Md. Sakib

Recent News