খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৫:৩৮ পিএম

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়ার পর বাহার (৩০) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাহার ওই এলাকার বাসিন্দা এবং রশিদ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে প্রতিবেশী রাসেলের স্ত্রী ঝুমু মোবাইল ফোনে বাহারকে বাড়ির বাইরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে যেতে বলেন। অভিযোগ রয়েছে, ফোন পেয়ে সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
কিছু সময় পর স্থানীয় লোকজন বাহারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় সুরতহাল কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য