খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৪:১৫ পিএম

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, হত্যা এবং মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তুরাগ নদী থেকে দলটির তিন কর্মীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। একই সঙ্গে দলটির আরও চার নেতাকর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (২৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাহমুদ হাসান রিপন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গত ২২ জুন তুরাগ থানা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়, সেই কর্মসূচিতে আচমকা হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। সেখানে নেতাকর্মীদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালানোর পর কয়েকজনকে হত্যা করা হয় এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহগুলো তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নদী থেকে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বাকি চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দিকে। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলো দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে হামলা চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, “রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হওয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে। এই নৃশংসতা শুধু রাজপথেই সীমাবদ্ধ নেই, দেশের কারাগারগুলোতেও এখন পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে।”
বিবৃতিতে তিনি আরও প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, হত্যা, গুম, নির্যাতন কিংবা দমন-পীড়ন চালিয়ে আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া বা দমিয়ে রাখা যাবে না। দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন ও সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস ধারণ করেন, তাই যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শে অটল থাকবেন।
তুরাগ নদীর এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মাহমুদ হাসান রিপন অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, তা দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য