বাংলাদেশে ২০২৫ সালে মোট ২৭,০৫৯টি অগ্নিকাণ্ড, দিনে গড় ৭৫টি

২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোট ২৭,০৫৯টি অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা দৈনিক গড় ৭৫টির বেশি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে ২৬৭ জন আহত এবং ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশের অগ্নিসংক্রান্ত ঝুঁকিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

ফায়ার সার্ভিসের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বাধিক অগ্নিকাণ্ডের কারণ হলো বৈদ্যুতিক ত্রুটি। এছাড়া ধূমপানের ছাই বা সিগারেট, চুলা, গ্যাস সিলিন্ডারের ফুটো, ইউটিলিটি লাইন ত্রুটি এবং রাসায়নিক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মোট সম্পত্তি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫৬৯.৯৮ কোটি টাকা হলেও, আগুন নেভানোর মাধ্যমে প্রায় ৩,২৬৩.৬২ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ (২০২৫)

কারণঘটনা সংখ্যাশতকরা ভাগ
বৈদ্যুতিক ত্রুটি৯,৩৯২৩৪.৭১
সিগারেট/বিড়ি৪,২৬৯১৫.৭৮
চুলা২,৯০৯১০.৭৫
গ্যাস সিলিন্ডারের ফুটো৯২০৩.৪০
ইউটিলিটি লাইনের ফুটো৫৬২২.০৮
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ১২১০.৪৫
রাসায়নিক দুর্ঘটনা৩৮০.১৪
শিশুদের খেলা৬০৮২.২৫
গরম ছাই৩৫৬১.৩২
কইল৪৯৩১.৮২
আতশবাজি/ফানুস/ক্র্যাকার১০৯০.৪০

অগ্নিকাণ্ডের প্রধান স্থানসমূহ (২০২৫)

স্থানঘটনা সংখ্যা
আবাসিক ভবন৮,৭০৫
খড়ের স্তূপ৩,৯২২
দোকান১,৮০০
বাজার১,০৬৭
শপিং মল৬১৭
গার্মেন্টস কারখানা৬৬৫
অন্যান্য কারখানা৬১৫
গ্যাস সিলিন্ডার দোকান৪৮৩

পরিবহন ক্ষেত্রে মোট ৩৮৬টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বাসে ১৫৩, অন্যান্য যানবাহনে ২১৬, ট্রেনে ১০, লঞ্চে ৪, জাহাজে ২ এবং প্রশিক্ষণ বিমানেও ১টি ঘটনা ঘটেছে।

মাসিক হিসেবে ডিসেম্বর (২,৭২৪), জানুয়ারি (২,৭০৮), ফেব্রুয়ারি (২,৮৮৫) এবং মার্চ (৩,৫২২) সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ডের মাস, যার দৈনিক গড় ১২৩টি। আহত ও নিহতদের মধ্যে পুরুষ প্রাধান্য ছিল: ২৬৭ জন আহতের ১৯৭ জন এবং ৮৫ জন মৃত্যুর মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ১০,১৪০টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মাধ্যমে ১০,৩৩৩ জন আহত ব্যক্তি, ১,৭৫৬ জন মৃতদেহ এবং ৫৫১টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। ১০,৫৩৩টি ভবনের তদারকি করে ৩,৩১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ, ৬২২টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬,৫৯৫টি সন্তোষজনক চিহ্নিত হয়েছে। ১৯২টি মোবাইল কোর্টে ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা এবং ৮টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের এই অগ্নিকাণ্ডের তথ্য দেশের জন্য সতর্কবার্তা বহন করে। এ থেকে বোঝা যায়, কঠোর নিরাপত্তা বিধি, জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণা এবং জরুরি প্রস্তুতি আরও উন্নত করা অপরিহার্য।