খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সোমবার নবান্নে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত ও নিশ্ছিদ্র রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।
Table of Contents
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ধরনের আপস বা শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশকে এই মর্মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন, তাঁর প্রতিদিনের যাতায়াত পথ এবং ভবিষ্যতে তাঁর অংশগ্রহণকৃত রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষত, নিরাপত্তা বলয়ে যেন কোনো প্রকার ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা না থাকে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য নির্বিশেষে একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই নির্দেশনার মাধ্যমে নতুন সরকার সেই শিষ্টাচার এবং প্রশাসনিক প্রটোকল বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে।
| ব্যক্তিত্ব | বর্তমান নিরাপত্তা স্থিতি | প্রশাসনিক নির্দেশ ও পরিবর্তন |
| মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ নিরাপত্তা | নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখার কড়া নির্দেশ। |
| অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় | জেড প্লাস (সংশোধিত) | নিরাপত্তা বাহিনী ও বিশেষ যানের সংখ্যায় কাটছাঁট। |
| হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিবর্গ | নিয়মিত পর্যালোচনাধীন | সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা অধিক জোরদারকরণ। |
| কলকাতা পুলিশ | বাস্তবায়নকারী সংস্থা | নিয়মিত মহড়া ও নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ। |
সম্প্রতি ভোট পরবর্তী সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের বিয়োগান্তক ঘটনার পর রাজ্যের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন তিনি ‘জেড প্লাস’ পর্যায়ের যে বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশেষ পথপ্রদর্শক যানের সুবিধা পেতেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় তাতে কিছুটা হ্রাস ঘটানো হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে সরকার পূর্ণ প্রটোকল ও সৌজন্য বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবারের এই বৈঠকের পর থেকেই কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন স্তরে চাঞ্চল্য ও প্রস্তুতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ে থাকা কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন করে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক সৌজন্য রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই মুহূর্তের অগ্রাধিকার।
নবান্ন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, কেবল সাবেক মুখ্যমন্ত্রীই নন, বরং রাজ্যের সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবারের এই বৈঠকটি মূলত রাজ্যে একটি নিরাপদ প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরির প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে একটি গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বিরোধীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের এই সদর্থক অবস্থান আগামী দিনে কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য