বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাত্রলীগ নেতা মোয়াজের জানাজায় মানুষের ঢল

শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ও শেরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৬ মে, ২০২৬) বাদ আসর শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ বারাকপাড়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে সব স্তরের মানুষের সমাগম ঘটে। দীর্ঘ সাত মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানাজায় উপস্থিতি ও নাগরিক শোক

বুধবার বিকেলে শেরপুরে ভারি বৃষ্টিপাত হলেও মীরগঞ্জ বারাকপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজে মানুষের ঢল নামে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা মোয়াজের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

মৃত্যুর ঘটনাক্রম ও শেষ মুহূর্ত

আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ দীর্ঘ প্রায় সাত মাস কারান্তরীণ থাকার পর গত সপ্তাহে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি লাভের পর তিনি শেরপুরে নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের মতে, তার কোনো দৃশ্যমান শারীরিক জটিলতা ছিল না। গত মঙ্গলবার তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঢাকায় যান এবং লালবাগ এলাকায় একটি বাসায় অবস্থান করেন। বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক পরিচয় ও শিক্ষাজীবন

আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ফজু মিয়ার সন্তান। তিনি শেরপুর সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি শেরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন উদ্যমী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কারাবাসের প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের পর মোয়াজ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শেরপুর শহরে ছাত্র হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কলাবাগান এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে তাকে ধানমণ্ডি থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেই সময় থেকে প্রায় সাত মাস তিনি বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ছিলেন। গত সপ্তাহে জামিনে মুক্তির পর তার এই আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও দাফন পরবর্তী পরিস্থিতি

মোয়াজের মরদেহ ঢাকা থেকে শেরপুরে পৌঁছালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা তাকে নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। জানাজা ও দাফন চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। আইনি বিতর্ক ও মামলার জটিলতা সত্ত্বেও জানাজায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মোয়াজের সামাজিক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয় বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফিরাতের জন্য সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।