চট্টগ্রামে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সেতু এলাকার শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বরের সামনে থেকে এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আশিকুল ইসলাম। তিনি খুলনা জেলা পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন অবস্থায় থাকা আশিকুল ইসলামকে থামিয়ে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আশিকুল ইসলামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বাবর আলী মুন্সীর এলাকায়। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান (প্রথম আলো) জানান, শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বর এলাকায় নিয়মিত তল্লাশির সময় আশিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবার সংখ্যা ৫০ হাজার। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, ইয়াবাসহ এক পুলিশ সদস্য চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি তারা জেনেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, আশিকুল ইসলাম ছুটিতে ছিলেন নাকি দায়িত্বকালীন অবস্থায় চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটির মূল তথ্যগুলো নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নামআশিকুল ইসলাম
পদবী ও কর্মস্থলকনস্টেবল, খুলনা জেলা পুলিশ
গ্রেপ্তারের স্থানশাহ আমানত সেতু এলাকা, চট্টগ্রাম
উদ্ধারকৃত ইয়াবা৫০ হাজার পিস
গ্রেপ্তারের সময়মঙ্গলবার সকাল
মামলামাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন
বর্তমান অবস্থাআদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ

পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকায় চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নিয়মিত নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে। ওই তল্লাশির অংশ হিসেবেই শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বর এলাকায় এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।