ঢাকায় অপহরণের পর কলেজছাত্রের নির্মম হত্যা ,লাশ উদ্ধার মাধবপুরে

ঢাকায় অপহরণের পর এক কলেজছাত্রকে হত্যা করে তার লাশ হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের অদূরবর্তী স্থান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবকের নাম মো. ফরহাদ হোসেন মাহির (২৩)। তিনি ঢাকার উত্তরখান থানার চাঁনপাড়া এলাকার আব্দুল আউয়ালের ছেলে। তিনি রাজধানীর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, উত্তরা শাখার শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩০ এপ্রিল রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল দুর্বৃত্ত ফরহাদকে অপহরণ করে। এরপর তাকে ঢাকার বাড্ডা থানার আফতাবনগর এলাকার একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পরে তার মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ মৃদুল সরকার নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতের লাশ উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার সময়রেখা

তারিখ ও সময়ঘটনা
৩০ এপ্রিল রাতপূর্বপরিকল্পিতভাবে ফরহাদ হোসেন মাহিরকে অপহরণ
অপহরণের পরতাকে ঢাকার আফতাবনগরের একটি নির্জন কক্ষে নেওয়া হয়
নির্যাতনের পরশারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে ধারণা
পরবর্তী সময়লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তর
৫ মে সকালহবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায় লাশ উদ্ধার

পুলিশ জানায়, পুরো ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি সন্দেহভাজনদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ ও সম্পৃক্ত সবাইকে শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।