খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই মে ২০২৬, ১২:২৮ এএম

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে গুণগত পরিবর্তন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, সেটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ভারত। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়ের মতে, এই পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করতে দুই দেশের জনযোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও বেগবান করা প্রয়োজন।
Table of Contents
পাওয়ান বঢ়ে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সহযোগিতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগ (Connectivity) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বিশেষ করে কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলো দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সফলতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় নিয়মিত সংলাপ এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক আস্থার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় দেশ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও টেকসই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের মতে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ (People-to-People contact) বৃদ্ধিতে শিল্প ও সংস্কৃতি একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং শৈল্পিক আদান-প্রদান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামাজিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ভারত একটি বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এই আবহে গ্যালারি কায়ায় বিশিষ্ট শিল্পী রনজিৎ দাসের ‘কাঠি ড্রয়িংস অ্যান্ড আদার্স’ শীর্ষক একক শিল্প প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করা হয়। সমসাময়িক শিল্পচর্চায় নতুন মাত্রা যুক্ত করা এই প্রদর্শনীতে শিল্পীর মোট ৬৫টি অনবদ্য শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। জলরং, মিশ্র মাধ্যম, কালি এবং চারকোলের সমন্বয়ে আঁকা এসব ছবির পাশাপাশি প্রদর্শনীতে রয়েছে ২৯টি ছবির ‘ফোলিং’ নামক একটি বিশেষ পোর্টফোলিও।
প্রদর্শনীটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই আয়োজনটি কেবল শিল্পকর্ম প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিল্পী ও শিল্পানুরাগীদের মধ্যে ভাব বিনিময়ের একটি কার্যকর মঞ্চ। দেশের শিল্পচর্চাকে সমৃদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী রনজিৎ দাসের অঙ্কনশৈলী সম্পর্কে বলেন, “রনজিৎ দাসের কাজের ধারাটি অত্যন্ত স্বতন্ত্র। তিনি সরল রেখা ও ক্যানভাসের ফাঁকা স্থানকে এমনভাবে ব্যবহার করেন, যা গভীর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।” সমকালীন বাংলাদেশের শিল্পজগতে রনজিৎ দাসের শক্তিশালী উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি মনে করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী রনজিৎ দাস তাঁর কাজের অনুপ্রেরণা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ এবং বিশেষ করে পাহাড় ও প্রকৃতির সংস্পর্শ তাঁর শিল্পসত্ত্বাকে সমৃদ্ধ করেছে। দীর্ঘদিনের সেই অভিজ্ঞতা এবং প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যই তাঁর ক্যানভাসে শৈল্পিক ও নান্দনিক রূপে প্রতিফলিত হয়েছে।
উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত গ্যালারি কায়ায় শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীটি প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শিল্পানুরাগী ও সাধারণ দর্শনার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রদর্শনীটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের এই বক্তব্য এবং রনজিৎ দাসের একক শিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন—উভয়ই প্রমাণ করে যে, রাজনীতি ও অর্থনীতির পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক এই অভিন্ন ভিত্তিই আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশা প্রকাশ করছে যে, এই ধরণের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দুই দেশের মানুষের মধ্যে মৈত্রীর বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।
মন্তব্য