মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় একটি জলাশয়ের কচুরিপানার মধ্য থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের খাসেরচর পশ্চিমপাড়া এলাকায় মুন্সিবাড়ি, স্থানীয়ভাবে শহর মুন্সির বাড়ি নামে পরিচিত স্থানের পাশে একটি জলাশয় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার দুপুরের দিকে জলাশয়ের আশপাশে হঠাৎ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আনুমানিক বেলা ২টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে জলাশয়ের আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শহর মুন্সির বাড়ির পেছনে কচুরিপানার ভেতর পানিতে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান তারা।
মরদেহ দেখতে পাওয়ার পর স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে সিংগাইর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জলাশয় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি দীর্ঘ সময় পানিতে পড়ে থাকায় সেটি অর্ধগলিত ও বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত কিশোরের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার বয়স সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ একই সঙ্গে নিহত কিশোরের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায়ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরটি কীভাবে ওই জলাশয়ে পৌঁছাল, কতদিন ধরে সেখানে ছিল এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয় এখনও পরিষ্কার নয়। পুলিশ ঘটনাটিকে আপাতত কোনো নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে যুক্ত না করে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি কোনো দুর্ঘটনার ফলে কিশোরটির মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কিশোরটির পরিচয় ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।










