পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক ব্যক্তির নাম পলাশ চন্দ্র মাঝি (৩৪)। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলী জেলার খানাকুল থানার কেদারপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই তথ্য অনুযায়ী, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্থ পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে—এমন সন্দেহে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, পলাশ চন্দ্র মাঝি বাংলাদেশে পর্যটন ভিসায় গত ২৭ মার্চ প্রবেশ করেন। তিনি দেশে অবস্থান শেষে ভারতে ফেরার উদ্দেশ্যে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আসেন। প্রাথমিকভাবে তিনি শুল্ক তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে জিরো পয়েন্ট এলাকার সমন্বিত চেকপোস্টে তাকে বিশেষভাবে তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ডায়েরির ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। পরে গণনা করে দেখা যায়, তার কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মার্কিন ডলার, ভারতীয় রুপি, নেপালি রুপি এবং বাংলাদেশি টাকা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, তিনি হুন্ডি বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তর চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে এসব মুদ্রা বহনের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্তভাবে কোনো অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি।
আটকের পর পলাশ চন্দ্র মাঝিকে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা শুল্ক কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লাইছুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে অবগত হয়েছেন। আটক ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় হস্তান্তর হলে এবং শুল্ক বিভাগ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্ত এলাকায় অর্থ পাচার ও অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধে বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থার নজরদারি নিয়মিতভাবে জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্থলবন্দর এলাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যাতায়াতের আড়ালে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অর্থ লেনদেন না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
উদ্ধারকৃত মুদ্রার বিবরণ
| ক্রমিক | মুদ্রার ধরন | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | মার্কিন ডলার | ২৪,৬০০ |
| ২ | ভারতীয় রুপি | ৫ |
| ৩ | নেপালি রুপি | ১৩০ |
| ৪ | বাংলাদেশি টাকা | ৩,৫৭০ |
এই ঘটনার পর সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি অবৈধ অর্থ পাচার প্রতিরোধে যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
