খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই এপ্রিল ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম

মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর পৌরসভায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছোট ভাই ও ভাতিজাদের হামলায় খন্দকার নজরুল ইসলাম (৬২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৩:৩০ মিনিটের দিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোলড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই হামলায় নিহতের ছেলে খন্দকার অভি (২৮) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিন খন্দকারের দুই ছেলে খন্দকার নজরুল ইসলাম ও খন্দকার ওয়াহেদের মধ্যে পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিবাদ চলছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বৈঠক চলাকালীন অভিযুক্ত খন্দকার ওয়াহেদ ও তার সন্তানদের সালিশে ডাকা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অতর্কিত হামলা চালান।
হামলার এক পর্যায়ে প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের ছেলে নিশাদ (১৮) অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে নজরুল ইসলামকে সজোরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একই সময়ে নজরুল ইসলামের ছেলে খন্দকার অভিকে লক্ষ্য করে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের নাম | খন্দকার নজরুল ইসলাম (৬২) |
| আহত ব্যক্তি | খন্দকার অভি (২৮), নিহতের ছেলে |
| প্রধান অভিযুক্ত | খন্দকার ওয়াহেদ (ছোট ভাই) ও সহযোগীরা |
| ঘটনার স্থান | গোলড়া গ্রাম, ৫নং ওয়ার্ড, সিংগাইর পৌরসভা |
| ঘটনার সময় | শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬; বিকেল ৩:৩০ মিনিট |
| আঘাতের ধরণ | শারীরিক আঘাত ও ভোঁতা অস্ত্রের (ইট) ব্যবহার |
| বর্তমান অবস্থা | অভিযুক্তরা পলাতক, পুলিশি তদন্ত চলমান |
সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা দ্রুত আহত পিতা ও পুত্রকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে নজরুল ইসলামের অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার্ড) পরামর্শ দেন। সাভারের ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আহত অভি খন্দকার বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত খন্দকার ওয়াহেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সিংগাইর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। বর্তমানে গোলড়া গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃংখলা রক্ষায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য