বিশ্বকাপ টিকিটে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিট, যাতায়াত, আবাসন ও বিভিন্ন সেবার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ফিফার পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছানো এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহু গুণ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমর্থক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে ফাইনাল ম্যাচের চারটি টিকিটের প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় তেইশ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আটাশ কোটি টাকার বেশি। টিকিটগুলো নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের একটি নির্দিষ্ট গ্যালারি ব্লকের নির্ধারিত আসনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই দাম নির্ধারণে ফিফা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না রাখলেও লেনদেন থেকে কমিশন গ্রহণ করে।

ফিফার নীতিমতে, পুনর্বিক্রয় ব্যবস্থায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে পনের শতাংশ করে কমিশন নেওয়া হয়। ফলে চারটি টিকিট নির্ধারিত দামে বিক্রি হলে কমিশন থেকে সংস্থাটির আয় দাঁড়ায় প্রায় তেত্রিশ কোটি টাকার বেশি।

টিকিট ও ফি সংক্রান্ত তথ্য

বিষয়মূল্য (ডলার)আনুমানিক বাংলাদেশি মুদ্রা
ফাইনাল টিকিট (প্রতি আসন)২২,৯৯,৯৯৮প্রায় ২৮ কোটি টাকা
ফিফা নির্ধারিত বিক্রয় টিকিট১০,৯৯০প্রায় ১৩ লাখ টাকা
সেমিফাইনাল (আটলান্টা)৯,৬৬০ – ৪,৩৬০বিভিন্ন স্তরের মূল্য
সেমিফাইনাল (টেক্সাস)১১,১৩০প্রায় ১৩ লাখ টাকার বেশি

বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

ফিফার পুনর্বিক্রয় নীতির কারণে টিকিটের দাম বাজারভিত্তিকভাবে ওঠানামা করছে, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে গ্যালারির অন্যান্য আসনের টিকিটও কয়েক হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। এমনকি সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্যও দশ হাজার ডলারের বেশি।

বিশ্বখ্যাত কোচ পেপ গার্দিওলা এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আগে বিশ্বকাপ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য একটি উৎসব, কিন্তু এখন তা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, ফুটবল দর্শকদের জন্য হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ সমর্থকদের জন্য খেলা দেখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয় সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। তবে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতির কারণে টিকিটের মূল্য বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া হোটেল ভাড়া, পরিবহন খরচ ও পার্কিং ফিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিছু শহরে হোটেল ভাড়া চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, ট্রেন ভাড়া সাধারণের তুলনায় প্রায় দশ গুণ এবং স্টেডিয়ামে পার্কিং ফি দুই শত ডলারের বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি ফ্যান জোনে প্রবেশের জন্যও আলাদা টিকিট কিনতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বকাপকে একটি উচ্চ ব্যয়ের আয়োজন হিসেবে পরিণত করছে, যা সাধারণ দর্শকদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে।