টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২६ সালের এই আসরে ভারতের সাফল্য কেবল ঘরের মাঠে সীমাবদ্ধ নয়; এই জয় পূর্বের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল জয়কে আরও শক্তিশালী করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান এই টুর্নামেন্টে সুপার এইট পর্যায়ে বিদায় নিয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সমস্যাকে আরও সামনে এনেছে।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ভারত টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। সূর্যকুমার যাদব, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি এবং অন্যান্য তারকা ক্রিকেটারদের নেতৃত্বে ভারত প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার গৌরব অর্জন করল।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, “ভারতের ডিএনএতেই রয়েছে ট্রফি জয়। তারা যখন টস হারলেও ২৫৫ রান করে ফেলে এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। এটি রাতারাতি হয়নি; গত ১০ বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল। ভারত এখন বড় টুর্নামেন্টে ফাইনালে ওঠা এবং শিরোপা জয়কে অভ্যাসে পরিণত করেছে।”
পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে শুরু হলেও সুপার এইট পর্যন্ত যেতে পারেনি। সাম্প্রতিক দশকে দেশটির পারফরম্যান্সের তুলনামূলক তথ্য নিম্নরূপ:
| বছর | টুর্নামেন্ট | পাকিস্তানের ফলাফল | উল্লেখযোগ্য মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| 1992 | ওয়ানডে বিশ্বকাপ | চ্যাম্পিয়ন | রিচার্ড হ্যাডলির নেতৃত্বে শিরোপা জয় |
| 2009 | টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ | চ্যাম্পিয়ন | পাকিস্তানের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় |
| 2017 | চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি | চ্যাম্পিয়ন | শেষবার আইসিসি ইভেন্ট জয় |
| 2024 | টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ | গ্রুপপর্বে বিদায় | বাবর আযম, সালমান বাট ও শাহীন আফ্রিদি নেতৃত্বে ব্যর্থতা |
লতিফ আরও বলেন, “ভারতের ডিএনএতে আছে ফাইনাল খেলা এবং জেতা; আর আমাদের ডিএনএ হলো নকআউট পর্বের আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া। এটি বোঝায় যে আমাদের দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সংস্কৃতিতে সমস্যার আছে।”
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড খেলার খারাপ পারফরম্যান্সের পর খেলোয়াড়দের জরিমানা করেছে। লতিফ বিষয়টি নিয়ে বলেন, “দুর্বল বোর্ডই এমন জরিমানা আর পুরস্কারের ব্যবস্থা করে। যখন খেলোয়াড় কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করে, সেখানে সবকিছু লিখিত থাকে—জরিমানা ও পুরস্কারের নিয়মও।”
এই টুর্নামেন্টের ফলাফল ভারতের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরেছে, যেখানে সংক্ষিপ্ত পরিসরের ক্রিকেটে দেশের কৌশল, দক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের ব্যর্থতা তাদের পরবর্তী প্রস্তুতি ও কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
