খিলক্ষেতের পাঁচতারা হোটেলে আগুন, চারজন দগ্ধ

রাজধানীর খিলক্ষেতে শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে একটি বহুতল পাঁচতারা হোটেলের নিচতলায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। খিলক্ষেত ওভারব্রিজ সংলগ্ন ১৪ তলা হোটেলের নিচতলায় এসি মেরামতের সময় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরে যায়। এতে চারজন কর্মী দগ্ধ হন।

ঘটনার সময় হোটেলের নিচতলায় কেবলমাত্র কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। দগ্ধদের সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের দগ্ধের অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের তথ্য ও চিকিৎসা

নামবয়সঅবস্থানহাসপাতালে নেওয়ার সময়দগ্ধের অবস্থা
মো. মনসুর৩২হোটেল স্টাফভোর ৬:৩০গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল
মো. আব্দুল মতিন৬৭হোটেল স্টাফভোর ৬:৪৫স্থিতিশীল, চিকিৎসাধীন
মো. মাহি১৭হোটেল স্টাফভোর ৬:৫০মাঝারি দগ্ধ, পর্যবেক্ষণ
মো. আব্দুল জলিল৬৭হোটেল স্টাফভোর ৭:০০গুরুতর, বিশেষ চিকিৎসা চলছে

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিকটস্থ স্টেশনকে জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হোটেলের অন্যান্য অংশে বিস্তার রোধ করে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হোটেলের বাকি কর্মী এবং অতিথিদের নিরাপদে বাইরে আনা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ভবনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং সেফটি প্রটোকল যাচাই করছে। ভবন মালিককে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ উন্নতি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুন ও ধোঁয়ার কারণে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই ঘটনায় বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় হলো দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও সঠিক উদ্ধার কার্যক্রমের কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। যদিও দগ্ধদের অবস্থা গুরুতর, তবে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের সুস্থতার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ দুর্ঘটনা রাজধানীর বহুতল ভবনে অগ্নি নিরাপত্তার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করলো এবং ভবিষ্যতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।