ভিজিএফ চাল বিতরণে জেলেদের ওপর অর্থ দাবি নিয়ে তোলপাড়

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভুক্তভোগী গণফলন) চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে জেলেদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিতরণের সময় প্রতি জেলের কাছে ১০০ টাকা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয়রা বিষয়টিকে অবৈধ চাঁদা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সরকারি সহায়তা কর্মসূচিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই বিতরণ কর্মসূচি বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন প্রশাসক মো. তরিকুল ইসলাম উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জেলেদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, শুরুতে প্রতি জেলে ১০০ টাকা দেওয়ার শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। তবে জেলেদের মধ্যে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের পর অর্থ আদায় ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করা হয়।

স্থানীয় হোগলপাতি গ্রামের উপকারভোগী জেলে শহীদ হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়ন পরিষদে আসার সময় শুনতে পান, টাকা না দিলে ৮০ কেজি চালের পরিবর্তে ৭০ কেজি দেওয়া হবে। স্থানীয় জেলে গফফর হোসেন জানান, ইউপি সদস্যরা চাল বিতরণের সময় জেলেদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী।

আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম হাওলাদার জানান, আগে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার পরিষদে বিতরণ করা হতো। এবার নতুন প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা অনুসারে ৮০ কেজি চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।

উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমে পরিবহণ খরচ হিসেবে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে জেলেদের প্রতিবাদের কারণে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

ভিজিএফ চাল বিতরণ সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে:

বিষয়বিবরণমন্তব্য / প্রভাব
ইউনিয়নআমড়াগাছিয়া, মঠবাড়িয়া৯টি ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত
উপকারভোগী৬৬০ জন বেকার জেলেসরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচি
চালের পরিমাণপ্রতি জেলে ৮০ কেজিবিতরণ কার্যক্রমে সুষ্ঠু নীতি প্রযোজ্য
বিতরণ কর্তৃপক্ষউপজেলা বিআরডিবি ও ইউনিয়ন প্রশাসকস্থানীয় ইউপি সদস্যদের সহযোগিতা
বিতর্কের কারণপ্রতি জেলের কাছে ১০০ টাকা আদায়ের চেষ্টাজেলেদের মধ্যে প্রতিবাদ ও উত্তেজনা সৃষ্টি
সমাধানসরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিনামূল্যে বিতরণবিতর্ক প্রশমিত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত

উল্লেখ্য, এই বিতরণ কর্মসূচি সরকারের মানবিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হলে তা উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত ও সমাধান করা হবে।

ফলে, বিতর্কিত পরিস্থিতি সমাধানের মাধ্যমে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের জেলেরা নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে ভিজিএফ চাল গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি স্থানীয়দের মধ্যে সামাজিক ন্যায় ও সরকারি সহায়তার প্রতি আস্থা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, প্রশাসনিক সতর্কতা ও জেলেদের সচেতনতা মিলিত হলে স্থানীয় বিতর্ক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এবং সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়।