মার্চের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশে এসেছে ১৯২ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১.৯২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। গড়ে প্রতিদিন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রেরণ করেছেন ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এই তথ্য বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছে ১৩৩ কোটি ডলার, যা দিয়ে তুলনা করলে চলতি বছরের মার্চে প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২,৪৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা বছর ব্যবধানে ২৩.২০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিফলন।

ব্যাংক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসীরা ঈদ ও অন্যান্য উৎসবকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবার ও আত্মীয়দের কাছে অধিক পরিমাণ অর্থ প্রেরণ করছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের কারণে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহে সাময়িক ধীরগতি আনতে পারে।

চলতি অর্থবছরে মাসিক রেমিট্যান্সের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিম্নরূপ:

মাসরেমিট্যান্স (মার্কিন ডলার)বৈশিষ্ট্য / মন্তব্য
জুলাই ২০২৫২৪৭ কোটি ৮০ লাখঅর্থবছরের শুরুতে স্থিতিশীল প্রবাহ
আগস্ট ২০২৫২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজারসামান্য কম, কিন্তু ধারাবাহিকতা বজায়
সেপ্টেম্বর ২০২৫২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজারপ্রবাসী আয়ের সামান্য বৃদ্ধি
অক্টোবর ২০২৫২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজারমাসিক পরিবর্তন সামঞ্জস্যপূর্ণ
নভেম্বর ২০২৫২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজারচলতি অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
ডিসেম্বর ২০২৫৩২২ কোটি ৬৭ লাখইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স
জানুয়ারি ২০২৬৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজারচলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ
ফেব্রুয়ারি ২০২৬৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজারধারাবাহিক প্রবাহ বজায় আছে
মার্চ ১–১১, ২০২৬১৯২ কোটিগড়ে প্রতিদিন ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার প্রেরণ

গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩,৩২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, প্রেরিত অর্থ সামাজিক ও পারিবারিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ আগামী মাসগুলোতেও উন্নতির ধারা বজায় রাখবে, তবে আন্তর্জাতিক সংঘাত, বিশ্ব অর্থনীতির ওঠাপড়া বা অন্যান্য জিওপলিটিক্যাল সমস্যা সাময়িকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফলে, মার্চের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসী আয়ের এই শক্তিশালী প্রবাহ দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হচ্ছে।