মাদরাসাছাত্রকে অপহরণ করে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১

বগুড়ার শেরপুরে এক মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রকে অপহরণ করে বিবস্ত্র করা, নির্যাতন এবং মাথার চুল ন্যাড়া করার shocking ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বুধবার (১১ মার্চ) ভুক্তভোগীর বাবা জহুরুল ইসলাম শেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী জানান, নির্যাতনের শিকার কিশোর মাহমুদুল হাসান (১৩) স্থানীয় শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, মাহমুদুল হাসান ৬ মার্চ দুপুরে স্থানীয় তালতলা এলাকায় খেলাধুলার বিরোধের জেরে কয়েকজন যুবকের হাতে আটক হন। এরপর তাঁকে শেরপুর শহরের খন্দকারটোলা এলাকায় শামছুল হক মুন্সির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয় এবং মাথার চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।

নির্যাতনের পর কিশোরটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পুলিশের ব্যবস্থা

ইব্রাহীম আলী জানান, এ ঘটনায় শেরপুর থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মামলার দুই নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মোতালেব আলভী (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার বেংনাই গ্রামে। গ্রেপ্তার মোতালেব আলভী শেরপুরের খন্দকারটোলা এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে অনলাইনে নতুন কাপড়ের ব্যবসা করতেন।

মামলার অপর আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার মোতালেবকে বুধবার বিকেলে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
ভুক্তভোগীমাহমুদুল হাসান (১৩), সপ্তম শ্রেণির মাদরাসা শিক্ষার্থী
মামলার তারিখ১১ মার্চ ২০২৬
স্থানশেরপুর, বগুড়া
আসামি সংখ্যা৬ জন (১ গ্রেপ্তার, ৫ পলাতক)
গ্রেপ্তারকৃতমোতালেব আলভী (১৯), রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
অপরাধের ধরনঅপহরণ, বিবস্ত্র করে নির্যাতন, চুল ন্যাড়া করা
মামলা দায়েরকারীজহুরুল ইসলাম (ভুক্তভোগীর বাবা)

শেরপুর থানার ওসি বলেন, “ভুক্তভোগীর দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে আমরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি এবং মামলার অপর আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় সমাজের জন্য গভীর শোকের বিষয় এবং কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানানো হয়েছে।