কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে বিনোদনশিল্পে তারকাদের কণ্ঠস্বর ও চেহারার অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের পরিচয়, কণ্ঠ ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন সুরক্ষিত রাখতে নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন পপ সংগীত তারকা টেইলর সুইফট।
তিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে তিনটি পৃথক আবেদন জমা দিয়েছেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে তার কণ্ঠস্বরের নির্দিষ্ট বাক্যাংশ এবং একটি পরিচিত মঞ্চচিত্রকে আইনগত সুরক্ষার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবেদনগুলো তার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাখিল করা হয়, যা তার সৃজনশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ এপ্রিল এসব আবেদন জমা দেওয়া হয়। দুটি আবেদন তার কণ্ঠস্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে “হেই, ইটস টেইলর সুইফট” এবং “হেই, ইটস টেইলর” বাক্যাংশকে ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের চেষ্টা করা হয়েছে। তৃতীয় আবেদনটি একটি ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের বিষয়ে, যেখানে তাকে গোলাপি রঙের গিটার হাতে ঝলমলে পোশাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞ জশ গারবেন বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া কণ্ঠ বা চেহারার অনুকরণ এখন বিনোদন জগতে একটি বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী পরিচিত তারকারা এই ধরনের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন বেশি।
সাধারণভাবে ট্রেডমার্ক আইন কোনো ব্যক্তির সম্পূর্ণ কণ্ঠ বা চেহারা সুরক্ষার জন্য তৈরি হয়নি। তবে নতুন এই ধরনের আবেদন একটি কৌশলগত আইনি পথ খুলে দিতে পারে, যার মাধ্যমে জনপ্রচারের অধিকার সম্পর্কিত প্রচলিত সুরক্ষার পাশাপাশি আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা সম্ভব।
এর আগেও টেইলর সুইফটের চেহারা ও কণ্ঠ ব্যবহার করে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যার জন্য তার অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একটি বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের চ্যাটভিত্তিক প্রযুক্তিতেও তার অননুমোদিত ব্যবহার দেখা গেছে। এছাড়া অনলাইনে তার নামে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে তার নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কৃত্রিম ছবি প্রচারের অভিযোগও উঠেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেডমার্কের মাধ্যমে এই ধরনের উপাদান সুরক্ষিত হলে ভবিষ্যতে ফেডারেল আদালতে মামলা করা তুলনামূলক সহজ হয়, কারণ এর প্রভাব পুরো দেশে কার্যকর থাকে। এটি তারকাদের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।
নিচে আবেদনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| আবেদন ধরন | বিষয়বস্তু | উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| কণ্ঠস্বর সংক্রান্ত আবেদন | “হেই, ইটস টেইলর সুইফট” বাক্যাংশ | কণ্ঠের অনুকরণ প্রতিরোধ |
| কণ্ঠস্বর সংক্রান্ত আবেদন | “হেই, ইটস টেইলর” বাক্যাংশ | পরিচয়গত কণ্ঠসুরক্ষা |
| ভিজ্যুয়াল আবেদন | গোলাপি গিটারসহ মঞ্চচিত্র | ভিজ্যুয়াল পরিচয় সুরক্ষা |
আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বহু তারকার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে, যেখানে প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে নিজের পরিচয় রক্ষায় আইনগত কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
