মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ঈদুল ফিতরের সংবাদ সম্মেলনে অপ্রত্যাশিত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বন্যা তহবিলের ব্যবহার নিয়ে সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি, নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে, গণমাধ্যমের সামনে উচ্চস্বরে প্রশ্ন তোলেন, “বন্যার টাকা কোথায় গেল? সেই টাকার হিসাব কি পাওয়া যাবে?”
ঘটনাস্থলেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রশ্নকারী ধারাবাহিকভাবে বন্যা তহবিলের হিসাব জানতে চাইছেন এবং অভিযোগ করেন, “জুলাইযোদ্ধাদের কোনো খোঁজখবর নেই। উনি কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন, এই টাকা কোথা থেকে আসে?” তিনি আসিফ মাহমুদকে ‘সন্ত্রাস’ ও ‘মববাজ’ বলেও অভিহিত করেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| বিকেল, মঙ্গলবার | সংবাদ সম্মেলন শুরু |
| উপস্থিত | আসিফ মাহমুদ ও এনসিপি প্রতিনিধি দল |
| হট্টগোল | জুলাইযোদ্ধা প্রশ্ন তোলা শুরু, সাংবাদিকরা পরিচয় জানতে চায় |
| মূল অভিযোগ | বন্যা তহবিলের হিসাব নেই, জনগণের অর্থের সদ্ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ |
| সামাজিক প্রতিক্রিয়া | ভিডিও ভাইরাল, নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা |
প্রশ্নের উত্তরে আসিফ মাহমুদ সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সংবাদ সম্মেলনে পরে তিনি জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী রাজধানীতে আয়োজন পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই উৎসবে থাকবে ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিল। সফল বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি ও কার্যক্রম পরিচালনার উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
আয়োজকরা আরও জানিয়েছেন, নাগরিক উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে সর্বসাধারণের আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করা হবে এবং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যে কোনো তরুণ এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এনসিপি মনে করিয়ে দিচ্ছে, উৎসব সমাজের সকল স্তরের জন্য উন্মুক্ত এবং এর মাধ্যমে নাগরিক অংশগ্রহণ ও স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা প্রসারিত হবে।
সাংবাদিকরা এবং সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার হওয়ার পর জনমনে প্রশ্নের মাত্রা বেড়ে গেছে। বিশেষত সাবেক সরকারের সময় বরাদ্দকৃত বন্যা তহবিলের হিসাব আজও প্রকাশ না হওয়ার কারণে ত্রাণ তহবিলের স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ‘জুলাইযোদ্ধাদের’ প্রশ্ন এই পরিস্থিতিতে জনগণের স্বাভাবিক কৌতূহলের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনা মূলত নাগরিক তহবিলের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি তীব্র বিতর্কের সূচনা করেছে, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিধ্বনি ফেলেছে।
