ঈদে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯ সুপারিশ

প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। রাজধানী ও বড় শহর থেকে লাখো মানুষ গ্রামের বাড়িতে ফেরার কারণে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিবহন ব্যবস্থায় তৈরি হয় তীব্র চাপ। এই অতিরিক্ত চাপ, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক এবং ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচলের কারণে ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অনেক পরিবার চরম শোক ও ক্ষতির মুখে পড়ে।

এই বাস্তবতায় আসন্ন ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরাম। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং–এর সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের সময় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, মোটরসাইকেলের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, চালকদের ক্লান্তি এবং পথচারীদের অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসে নির্ধারিত সময়ের চাপে অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)–এর তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে সারা দেশে ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ২০৮ জন আহত হন। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরে ১৫ দিনের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৩৯ জন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত।

নিচে সাম্প্রতিক ঈদ মৌসুমে সড়ক দুর্ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

বছরসময়কালদুর্ঘটনার সংখ্যানিহতআহত
২০২৪ঈদুল ফিতরের ৮ দিন১১০১৩২২০৮
২০২৩ঈদুল ফিতরের ১৫ দিনতথ্য উল্লেখ নেই২৩৯তথ্য উল্লেখ নেই

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরাম নয়টি সুপারিশ দিয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং ঈদের সময় নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে মানা বাধ্যতামূলক করা। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে নছিমন, করিমন, টেম্পো, ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে গাড়ি চালানো বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা এবং পদচারী–সেতুর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেরও সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

সংস্থাটির মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এতে ঈদের মতো বড় উৎসবে মানুষ নিরাপদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটাতে পারবে এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমে আসবে।