রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত রাখা এবং অপরাধীদের দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। গত শনিবার ও রোববার ঢাকা উত্তর ও মিরপুর বিভাগের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় দিনব্যাপী এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার ডিএমপির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় মাদক সেবন এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মূলত অপরাধীদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। শাহ আলী, ভাষানটেক, মিরপুর মডেল, কাফরুল, রূপনগর, দারুসসালাম, পল্লবী এবং উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অতর্কিত অভিযান চালানো হয়।
নিচে থানা ভিত্তিক গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা ও তথ্যের একটি পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| থানার নাম | গ্রেপ্তার সংখ্যা | প্রধান অভিযুক্তদের নাম (নমুনা) |
| শাহ আলী | ১৭ জন | রুবেল মোল্লা, আবুল শেখ, এরশাদ, রাব্বি |
| পল্লবী | ০৯ জন | সাব্বির, সজিব মিয়া, ফয়সাল, বাদল |
| উত্তরা পূর্ব | ০৯ জন | নোমান, লিটন, সোহেল রানা, হৃদয় |
| মিরপুর মডেল | ০৬ জন | বাবুল, রাসেল, মামুন গাজী, মোহাম্মদ হোসেন |
| রূপনগর | ০৬ জন | রাসেল, আলাউদ্দিন, শিপন, আকরাম |
| দারুসসালাম | ০৬ জন | জালাল হোসেন, জুয়েল মিয়া, আনোয়ার সেলিম |
| কাফরুল | ০৪ জন | আরিফ, মেহেদি, আসাদুল্লাহ সুমন, রাসেদ |
| ভাষানটেক | ০৩ জন | কাজু মিয়া, আব্দুল্লাহ সমন, আহাদ |
| সর্বমোট | ৬০ জন |
থানা ভিত্তিক অভিযানের বিস্তারিত
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গ্রেপ্তার হয়েছে শাহ আলী থানা এলাকায়, যেখান থেকে মোট ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে মাদক কারবারিদের একটি সংঘবদ্ধ চক্রও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পল্লবী এবং উত্তরা পূর্ব থানায় সমান সংখ্যক অর্থাৎ ৯ জন করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরা পূর্ব থানায় রোববারের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং সাব্বির হোসেনের মতো ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে।
মিরপুর মডেল ও দারুসসালাম থানা এলাকায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছে ১২ জন। দারুসসালাম এলাকাটি ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার হওয়ায় সেখানে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। এছাড়া রূপনগর এবং কাফরুল থানায় যথাক্রমে ৬ জন ও ৪ জনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকার কিশোর গ্যাং ও চিহ্নিত অপরাধীদের একটি বড় অংশকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরের পর তাদের যথাযথ পুলিশি পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের কারান্তরীণ রাখার বা রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসন্ন দিনগুলোতে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও এই ধরনের ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে অপরাধীদের দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নগরবাসীর জীবন ও মালের নিরাপত্তা প্রদানে ডিএমপি বদ্ধপরিকর এবং এই লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
