ট্রাইব্যুনালে বিচার থমকে যাওয়ার শঙ্কা নেই

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিরোধ বিচার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ট্রাইব্যুনালের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, “ট্রাইব্যুনালে বিচার থমকে যাওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে।”

সাম্প্রতিক ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিচারপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এই অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন আরেক প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ।

অন্যদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিকে সুলতান মাহমুদকে প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণের প্রস্তাব আসে নানা কারণের জন্য, যার মধ্যে রয়েছে:

অভিযোগের ধরনসংক্ষিপ্ত বিবরণ
বিশ্বাস ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘনট্রাইব্যুনালের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করা
নিরাপত্তা লঙ্ঘননিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করা
প্রশাসনিক অনিয়মদায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও তাজুল ইসলামের অনুরোধে পদক্ষেপ নেওয়া

নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “একটি পরিবারের মধ্যেও অনেক সমস্যা হয়। তবে সমস্যা থাকায় পরিবার থেমে যায় কি? ট্রাইব্যুনালও একটি পরিবারের মতো। এখানে যারা কাজ করেন, তারা সকলেই পরিবারের সদস্য। কোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিচার প্রক্রিয়াকে থামাতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ (সমঝোতা) করতে শিখিনি। আমার মাধ্যমে কোনো কম্প্রোমাইজ হবে না। নির্দোষ কোনো মানুষ আমার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হবেন না। অপরাধীরা আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না।”

চিফ প্রসিকিউটর তার বক্তব্যে জোর দিয়েছেন যে, ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ সর্বদা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ থাকবে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, বিচারকাজে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা সমালোচনা প্রভাব ফেলতে পারবে না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সকল মামলা এবং বিচার কার্যক্রম যথারীতি পরিচালিত হবে এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখা হবে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে বিচারিক স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।