টেকনাফে অস্ত্রসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলি এবং দেশীয় অস্ত্রসহ মো. রাসেল (৩৬) ওরফে ‘ডন রাসেল’ নামের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে উপকূলীয় রক্ষী বাহিনী। অভিযানে তার কাছ থেকে একাধিক ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে উপকূলীয় রক্ষী বাহিনীর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আটক মো. রাসেল টেকনাফ থানার সাবরাং ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার বাসিন্দা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপকূলীয় রক্ষী বাহিনীর একটি দল টেকনাফের সাবরাং এলাকার সিকদারপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে মো. রাসেলকে আটক করা হয় এবং তার দেহ ও আশপাশ তল্লাশি করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড তাজা গুলি এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক মো. রাসেল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, মানবপাচার এবং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপকূলীয় রক্ষী বাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মো. রাসেলের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক, মানবপাচার এবং অস্ত্র সংক্রান্ত মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর আগে একাধিকবার টেকনাফ থানা পুলিশ তাকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক করেছিল বলেও জানা যায়।

আটক ব্যক্তিকে বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে এবং জব্দকৃত অস্ত্র ও গুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

উদ্ধার ও মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়বিবরণ
আটক ব্যক্তির নামমো. রাসেল (ডন রাসেল)
বয়স৩৬ বছর
এলাকাসাবরাং ইউনিয়ন, সিকদারপাড়া, টেকনাফ
উদ্ধারকৃত অস্ত্রএকটি বিদেশি পিস্তল
গোলাবারুদএকটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড তাজা গুলি
দেশীয় অস্ত্রতিনটি ধারালো অস্ত্র
অভিযোগমাদক ব্যবসা, মানবপাচার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড
পূর্ববর্তী মামলামোট ৮টি মামলা

উপকূলীয় রক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।