খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে বিদায়ের দিনে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তার দাবি, চিফ প্রসিকিউটরের পদকে ব্যবহার করে তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট টাকা উপার্জনের সুযোগ তৈরি করেছিল।
সোমবার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত পোস্টে “ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?” শিরোনামে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ দুটি মন্তব্য করেছেন। সেই মন্তব্যে তিনি তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এছাড়া, তিনি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুন এবং আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে রাজসাক্ষী করার পেছনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ তার মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং চানখাঁরপুল এলাকায় গুলি চালানোর নির্দেশনার ভিডিও থাকলেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে।
| বিষয় | অভিযোগের বিবরণ | প্রাসঙ্গিক মামলা/রায় |
|---|---|---|
| আশুলিয়া লাশ পোড়ানো মামলা | এসআই আবজালুল হকের স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর তামিমের কক্ষে প্রবেশ, তথ্য তাজুল ইসলামকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি | বিচার শেষে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন, দুজনকে সাত বছর কারাদণ্ড; এসআই আবজালুল হককে রাজসাক্ষী হিসেবে ক্ষমা দেওয়া হয়েছে |
| চানখাঁরপুল গুলি ঘটনা | এসআই আশরাফুলের গুলি নির্দেশনার ভিডিও থাকা সত্ত্বেও তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা | ভিডিও প্রমাণ রয়েছে |
| রংপুর আবু সাঈদ হত্যা মামলা | এসি ইমরানকে অব্যাহতি, সাবেক আইজিপি আল-মামুনকে রাজসাক্ষী করা | অভিযোগ করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে |
| সিন্ডিকেটের অভিযোগ | চিফ প্রসিকিউটরের পদ ব্যবহার করে টাকা উপার্জনের ব্যবস্থা | তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট |
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, “শুধু আইজি মামুন নয়, আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলায় টাকার বিনিময়ে আফজালকেও রাজসাক্ষী করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিন–চারজনের একটি সিন্ডিকেট শুরু থেকেই এই চক্রে জড়িত।”
চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে বিদায়ের পর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কেউ যদি এই ধরনের অভিযোগ করে, আমরা তা আমলে নেই। ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত। যে কোনও মিথ্যা অভিযোগ ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তার জানা নেই যে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে এবং অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমও প্রথম আলোকে বলেছেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেন, “আজকের দিনটি আমাকে একটু সময় দিন। যদি এমন কোনো বিষয় থাকে, তা অবশ্যই আমার কাছে আসবে এবং তখন আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
মন্তব্য