চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হককে (৭০) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ১৩ আগস্ট বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম সৈয়দ মাহমুদুল হককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন শেখ মুজিব ভান্ডার মার্কেট এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আবু সিদ্দিকের ছেলে সৈয়দ মাহমুদুল হক। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মনছুরাবাদ পুলিশ লাইনের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিজয় মিছিলে হামলার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মোহাম্মদ আলম (৪৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় ডবলমুরিং মডেল থানায় পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে মাহমুদুল হককে ১৪৯ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আদালতে পুলিশের পেশ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সাথে সৈয়দ মাহমুদুল হকের প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে থাকার পক্ষে বেশ কিছু তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে যাতে দেশ ত্যাগ করতে না দেওয়া হয়, সে জন্য আগেই স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
চিঠির ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ গমনকালে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। খবর পেয়ে ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল পরের দিন ১৪ আগস্ট ঢাকা থেকে তাকে হেফাজতে নিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে আসামিকে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে জেলহাজতে আটকে রাখার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে কেবল একটিই নয়, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা আরও একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
মামলার সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে ডবলমুরিং মডেল থানার ওসি মো. শাহীনূর আলম জানান, হত্যাকাণ্ডটির তদন্ত কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








