ইতালিতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য ঘোষিত ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের তিন বছরব্যাপী কর্মসূচির প্রথম ধাপের ‘ক্লিক ডে’ সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। গত বুধবার নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন শ্রমিকের জন্য বিভিন্ন খাতে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়। তবে এবারের প্রক্রিয়াটি আগের বছরের তুলনায় বেশ কঠোর এবং জটিল হওয়ায় প্রত্যাশার তুলনায় আবেদন সংখ্যা কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
প্রবাসী বাংলাদেশি ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আবেদন প্রক্রিয়ার কঠোরতা এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি। ফলে যারা সঠিকভাবে আবেদন সম্পন্ন করতে পেরেছেন, তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি একটি বড় উদ্বেগও সামনে এসেছে—প্রশাসনিক জটিলতা এবং ‘ক্লিক ডে’ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে বহু বিদেশি শ্রমিক ইতালিতে অবৈধ অবস্থায় থেকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইতালির উচ্চকক্ষ সিনেটে উপস্থাপিত একটি সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই সমস্যার চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘এরো স্ত্রানিয়েরো’ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সরকারের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী শ্রমিক নিয়োগের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের হার অত্যন্ত কম। এর পেছনে মূলত জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটিকে দায়ী করা হয়েছে।
নিচে সাম্প্রতিক দুই বছরের কোটা ও অনুমোদনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বছর | নির্ধারিত কোটা | অনুমোদিত সংখ্যা | অনুমোদনের হার |
|---|---|---|---|
| ২০২৪ | ১,৪৬,৮৫০ | ২৪,৮৫৮ | ১৬.৯% |
| ২০২৫ | ১,৮১,৪৫০ | ১৪,৩৪৯ | ৭.৯% |
উপরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে কোটা বাড়ানো হলেও অনুমোদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে সুযোগ বৃদ্ধি পেলেও বাস্তবে অনেক আবেদনকারী শেষ পর্যন্ত বৈধভাবে ইতালিতে থাকার অনুমতি পাননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ক্লিক ডে’ পদ্ধতিটি মূলত একটি প্রতিযোগিতামূলক অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত আবেদন সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু সার্ভার জট, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং সীমিত সময়ের কারণে অনেক আবেদনকারী পিছিয়ে পড়েন। ফলে অনেক শ্রমিক বৈধ প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে না পেরে অবৈধভাবে কাজ করতে বাধ্য হন।
ইতালিতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকরা দেশটির কৃষি, নির্মাণ ও সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবুও তাদের একটি বড় অংশ অনিশ্চিত আইনি অবস্থায় কাজ করছেন, যা তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইতালির নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং ‘ক্লিক ডে’ ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। এতে করে একদিকে যেমন শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে বিদেশি শ্রমিকদের বৈধতা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
