পুলিশের সামনে ছাত্রদল সংঘর্ষে মুয়াজের ওপর নৃশংস হামলা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে এক ছাত্রনেতাকে পুলিশের উপস্থিতিতেই ছিনিয়ে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কোতোয়ালি থানাধীন বাঘমারা ছাত্রাবাসের প্রধান ফটকের সামনে এ ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

হামলায় গুরুতর আহত আমানুল্লাহ মুয়াজ বর্তমানে জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি মমেকের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। একই বর্ষের আরেক ছাত্র ও ছাত্রদল নেতা নাফিউল ইসলামকে এই হামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংঘর্ষ থেকে হামলার ভয়াবহ রূপ

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহত অবস্থায় মুয়াজকে হেফাজতে নেয়। চারজন পুলিশ সদস্য—যাদের মধ্যে দুইজন ইউনিফর্মধারী এবং দুইজন সাদা পোশাকে ছিলেন—তাকে বাঘমারা ছাত্রাবাস থেকে সরিয়ে মূল ফটকের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে নাফিউল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হন এবং পুলিশের কাছ থেকে মুয়াজকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন। এরপরই তিনি রাস্তার ওপর ফেলে হাতুড়ি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও হামলা থামাতে তাৎক্ষণিক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আরেকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার পর রাস্তায় রক্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সীমিত।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়বিস্তারিত
ঘটনাছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
স্থানবাঘমারা ছাত্রাবাস, মমেক, ময়মনসিংহ
তারিখ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার)
আহত ব্যক্তিআমানুল্লাহ মুয়াজ
অভিযুক্তনাফিউল ইসলাম
ব্যবহৃত অস্ত্রহাতুড়ি
বর্তমান অবস্থাজাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

পুলিশের ব্যাখ্যা ও তদন্ত

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে পুলিশের কাছ থেকে আহত ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটক নাফিউল ইসলামকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে মামলার বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তদন্ত শেষে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও উদ্বেগ

ঘটনার পর মমেক ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা এ ধরনের সহিংস ঘটনায় রূপ নিচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবে ছোট-বড় সংঘর্ষ হলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশের উপস্থিতিতে এমন নৃশংস হামলা ঘটার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

শেষ কথা

মমেক ক্যাম্পাসে সংঘটিত এই ঘটনা কেবল একটি সংঘর্ষ নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনে সহিংস রাজনীতির ভয়াবহ বাস্তব চিত্র হিসেবে সামনে এসেছে। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে হামলার এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও