ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ভাষা শহীদদের স্মরণে মর্যাদাপূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উদযাপন করেছেন। এই আয়োজনের মূল আয়োজনকারী ছিল বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদ ফ্রান্স, যা প্রবাসী কমিউনিটিতে মাতৃভাষা চর্চা, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ এবং ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ড উৎসাহিত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।
গার দ্যু নোর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পানসী গ্রিল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা উন্মুক্ত আলোচনাসভা, শ্রদ্ধা জানানো এবং পরবর্তীতে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। শুরুতেই মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল খায়ের লস্কর ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “প্রবাসে থেকেও মাতৃভাষা সংরক্ষণে আমাদের দায়িত্ব অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলা আমাদের কর্তব্য।” অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ভূঁইয়া, যিনি সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন।
উদ্বোধনী ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
| নাম | পরিচিতি |
|---|---|
| মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন | ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সমন্বয়ক |
| ইমরান আহমদ | নাগরিক পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক |
| মীর জাহান | অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাবেক সেনা সদস্য |
| মনোয়ার হোসেন | তরুণ চিন্তক |
| তানভীর ওয়াদুদ | মানবাধিকারকর্মী |
| ইকরামুল কবির সালমান | মহাকাশ বিজ্ঞানী |
| শহীদুল ইসলাম | সংগঠক |
| খান খালেদ মাহমুদ | অ্যাক্টিভিস্ট |
| সাইফুল ইসলাম | প্রবাসী সমাজকর্মী |
| আরাফাত রহমান | প্রবাসী সমাজকর্মী |
বক্তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধুমাত্র বাঙালির আবেগের দিন নয়; এটি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার প্রতীক। প্রবাসী বাংলাদেশিরা নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা চর্চা, দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার গুরুত্বের উপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসীরা গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, এই আয়োজন প্রমাণ করে—ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা সীমান্ত পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে। ইফতার মাহফিল শেষে সবাই একত্রে দোয়া ও ইফতার গ্রহণ করেন, যা প্রবাসী সমাজে ভাষা ও সংস্কৃতির সংহতি আরও দৃঢ় করে।
ফ্রান্সে এই আয়োজন প্রমাণ করে, প্রবাসে থেকেও মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সম্ভব এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা চিরকাল অম্লান রাখা যেতে পারে।
