হবিগঞ্জ শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর জেলা কার্যালয়কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল প্রায় ৮টার দিকে বিদেশে অবস্থানরত হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কয়েকটি ভিডিও ও স্থিরচিত্র প্রকাশ করেন। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল—‘আওয়ামী লীগ কার্যালয় উন্মুক্ত’।
প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল রোডে অবস্থিত জেলা কার্যালয়ের সামনের উন্মুক্ত স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্যে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আহ্বান স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি সাম্প্রতিক কিনা—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ভিডিওটির সময়, স্থান ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। “যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না”—বলেছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট একই কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ভবনের একটি অংশ পুড়ে যায় এবং ভেতরের আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকে কার্যালয়টি কার্যত পরিত্যক্ত ছিল এবং সেখানে নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তাজনিত কারণে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেও চিহ্নিত করেছিল বলে জানা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রকাশিত ভিডিওতে যে ধরনের সমাবেশ দেখা যাচ্ছে, সে সম্পর্কে তারা পূর্বে অবগত ছিলেন না। কারও কারও মতে, ঘটনাটি সীমিত পরিসরে বা স্বল্পসময়ের জন্য সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। আবার অন্যদের ধারণা, ভিডিওটি পূর্বের কোনো কর্মসূচিরও হতে পারে, যা নতুন করে প্রচার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি কার্যালয়কে ‘উন্মুক্ত’ ঘোষণা প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে। বিশেষত কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে প্রশাসনের তদন্ত-পরবর্তী অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
নিচে ঘটনাপ্রবাহের একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা তুলে ধরা হলো—
| তারিখ | ঘটনা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২ আগস্ট ২০২৪ | জেলা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ | ভবনের আংশিক ক্ষতি, কার্যক্রম বন্ধ |
| আগস্ট ২০২৪–ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | কার্যালয় পরিত্যক্ত | নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সকাল) | ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ | ‘কার্যালয় উন্মুক্ত’ ঘোষণা |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | পুলিশের তদন্ত ঘোষণা | প্রযুক্তিগত যাচাই প্রক্রিয়াধীন |
সর্বোপরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃত সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষ হলে ঘটনাটির বাস্তব প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে। ততদিন পর্যন্ত বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।
