মির্জা আব্বাসসহ ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিয়োগ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা আনতে এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে নতুন ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজন পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং বাকি পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

নিয়োগের আইনি ভিত্তি ও প্রজ্ঞাপন

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর বিধি ৩ (বি) অনুযায়ী তাঁকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ প্রদান করেছেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নবনিযুক্ত উপদেষ্টাগণ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যুক্ত থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপদেষ্টা তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও তরুণ মেধাবীদের স্থান দেওয়া হয়েছে, যা একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রশাসনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


নবনিযুক্ত উপদেষ্টাদের তালিকা ও পদমর্যাদা

নিচে নবনিযুক্ত ১০ জন উপদেষ্টার নাম ও তাঁদের পদমর্যাদা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হলো:

ক্রমিকউপদেষ্টার নামপদমর্যাদাপরিচিতি/বিশেষত্ব
০১মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদমন্ত্রীঅভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক।
০২নজরুল ইসলাম খানমন্ত্রীশ্রমিক নেতা ও দক্ষ সংগঠক।
০৩রুহুল কবির রিজভী আহমেদমন্ত্রীদীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও মুখপাত্র।
০৪মো. ইসমাইল জবিউল্লাহমন্ত্রীপ্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ।
০৫ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরমন্ত্রীঅর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন গবেষক।
০৬ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হুমায়ুন কবিরপ্রতিমন্ত্রীনিরাপত্তা ও কৌশলগত বিশ্লেষক।
০৭শামসুল ইসলামপ্রতিমন্ত্রীসাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ।
০৮ডা. জাহেদুর রহমানপ্রতিমন্ত্রীজনস্বাস্থ্য ও নীতি বিশ্লেষক।
০৯ড. মাহদী আমিনপ্রতিমন্ত্রীআন্তর্জাতিক বিষয়ক গবেষক ও তাত্ত্বিক।
১০রেহান আসিফ আসাদপ্রতিমন্ত্রীপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

এই উপদেষ্টা নিয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সরকারের প্রশাসনিক ভিত্তি মজবুত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানের মতো বর্ষীয়ান নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে, ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও ড. মাহদী আমিনের মতো বুদ্ধিজীবীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংস্কার ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হুমায়ুন কবিরের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শের জন্য রাখা হয়েছে, যা বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ডা. জাহেদুর রহমানের মতো ব্যক্তিত্ব স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শপথ গ্রহণ ও পরবর্তী কার্যক্রম

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত উপদেষ্টাগণ খুব শীঘ্রই বঙ্গভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করবেন। তাঁদের জন্য আলাদা দপ্তর বণ্টন এবং নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে থেকে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবেন। মূলত নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এই উপদেষ্টা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

এই নিয়োগের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, নতুন সরকার কেবল রাজনীতির মাঠে নয়, বরং বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে একটি আধুনিক ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সচেষ্ট।