অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, অনলাইন পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনায় বিচারকাজে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। তাঁর মতে, এটি প্রধান বিচারপতির একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত, যা বিচার ব্যবস্থার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করবে।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আদালত পরিচালনার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে একদিকে যেমন সময় ও সম্পদের সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে ১৯ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে হাইকোর্ট বিভাগে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন—বুধবার ও বৃহস্পতিবার—বিচার কার্যক্রম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উক্ত সিদ্ধান্তটি ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ এবং হাইকোর্ট বিভাগের প্রযোজ্য প্র্যাকটিস নির্দেশনা অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, অনলাইন পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনা বিচারপ্রার্থীদের জন্যও সুবিধাজনক হবে, কারণ এতে দূরবর্তী স্থান থেকে মামলার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সহজ হবে এবং সময় ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিচে সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘোষণাকারী | অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল |
| ঘোষণার স্থান | নিজ কার্যালয় |
| ঘোষণার তারিখ | বুধবার |
| পূর্ব বিজ্ঞপ্তির তারিখ | ১৯ এপ্রিল |
| আদালত বিভাগ | হাইকোর্ট বিভাগ |
| অনলাইন কার্যক্রমের দিন | প্রতি সপ্তাহে দুই দিন (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) |
| মূল উদ্দেশ্য | জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধি |
| আইনগত ভিত্তি | আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ |
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আদালত পরিচালনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিচার কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
