মানিকগঞ্জ জেলায় জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুদ এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
Table of Contents
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত ঘটনা
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ পৌরসভার হিজুলি বাজার এবং সদর উপজেলার রাজিবপুর বাজারে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
১. হিজুলি বাজার অভিযান:
পৌরসভার হিজুলি বাজারের ‘রিশাদ এন্টারপ্রাইজ’-এ তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আরিফুর রহমান (আরিফ) তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে উচ্চমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে এই মজুদ গড়ে তুলেছিলেন। আভিযানিক দল ওই প্রতিষ্ঠানের পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে অভিনব কায়দায় বস্তাবন্দি অবস্থায় রাখা প্লাস্টিকের ড্রামভর্তি প্রায় ১৪০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করে।
২. রাজিবপুর বাজার অভিযান:
একই দিনে সদর উপজেলার রাজিবপুর বাজারে ‘মিলন এন্টারপ্রাইজ’-এ অভিযান চালানো হয়। সেখানে তদারকিকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করছে। প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের মালিক মিলনকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও জরিমানার বিবরণ
অভিযান শেষে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জরিমানার বিস্তারিত নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| প্রতিষ্ঠানের নাম | অবস্থান | অপরাধের ধরণ | জরিমানার পরিমাণ (টাকা) | আইনের ধারা |
| রিশাদ এন্টারপ্রাইজ | হিজুলি বাজার, মানিকগঞ্জ | অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও লুকানো | ২৫,০০০/- | ৪৫ ধারা |
| মিলন এন্টারপ্রাইজ | রাজিবপুর বাজার, সদর | নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রি | ১,৫০,০০০/- | ভোক্তা অধিকার আইন |
| মোট | ১,৭৫,০০০/- |
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও অংশগ্রহণ
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছে। ভুট্টাক্ষেতের মতো অস্বাভাবিক স্থানে তেল লুকিয়ে রাখা একটি গুরুতর অপরাধ। বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই বিশেষ অভিযানে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন:
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর প্রতিনিধি দল।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর সদস্যবৃন্দ।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সামসুন্নবী তুলিপ।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পণ্যের মজুদদারি বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন দিনগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় জেলাজুড়ে তদারকি আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে পেট্রোল ও ডিজেলের মতো কৌশলগত পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি সহ্য করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
