বাংলাদেশে ১৩তম সংসদ নির্বাচনে বৈশ্বিক নজরদারি

আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ তার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এ নির্বাচন শুধু দেশীয় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। প্রধান উপদেষ্টা দফতরের প্রেস উইং অনুযায়ী, মোট ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত আছেন, যারা সাধারণ নির্বাচন এবং সমান্তরাল জাতীয় সংবিধানজনিত গণভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।

এই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংখ্যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন ১৫৮ জন, ২০১৩ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১২৫ জন, এবং ২০০৮ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৪ জন। এ বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং শাসনব্যবস্থার প্রতি বাড়তে থাকা আস্থা প্রতিফলিত করছে।

বর্তমান পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন আন্তর্জাতিক সংস্থার, ২৩৯ জন দ্বিপাক্ষিক দেশীয় মনোনীত এবং ৫১ জন গ্লোবাল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। পর্যবেক্ষকরা ২১টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিশেষ উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো: পাকিস্তান (৮ জন), শ্রীলঙ্কা (১১ জন), তুরস্ক (১৩ জন), মलेশিয়া (৬ জন), জাপান (৪ জন), ইরান (৩ জন), নাইজেরিয়া (৪ জন) এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (২ জন)।

প্রধান পর্যবেক্ষক সংস্থা ও মোতায়েন সংখ্যা

সংস্থা / দেশপর্যবেক্ষক সংখ্যা
এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL)২৮
কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট২৭
ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI)১৯
ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (NDI)১০
OIC, ICAPP, European External Action Service১৫
অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ও জাতীয় পর্যবেক্ষক২৯৫

সিনিয়র সচিব ও পর্যবেক্ষক সমন্বয় কর্মকর্তা লামিয়া মোর্শেদ বলেছেন, “বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার এত বৈচিত্র্যময় পর্যবেক্ষকরা উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে একটি মুক্ত, ন্যায্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিশ্বাস করছে।”

এই নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের ২,০০০-এর বেশি প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও, স্বাধীন প্রার্থীদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। জাতীয় সংবিধানজনিত সমান্তরাল গণভোটের কারণে নির্বাচনটি ইতিহাসগত গুরুত্ব বহন করছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে আছেন ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-অ্যাডো, ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা, তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহম্মদ ভাকুর এরকুল এবং যুক্তরাজ্যের লর্ড রিচার্ড নিউবি। মलेশিয়া, ইরান ও অন্যান্য দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত, যা নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও প্রমাণ করছে।

সার্বিকভাবে, আগামীকালের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।