গাজীপুরের গাছা এলাকায় পাওনা টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে রানী বেগম (৪০) নামে এক নারী ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার প্রধান আসামি, ছাত্রদলের সাবেক নেতা আশিক ইসলাম ওরফে স্বপন (২৭), শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত রানী বেগম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার মাইজবাগ গ্রামের মো. হিরোনের স্ত্রী। তিনি গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্থানীয় দুলাল মার্কেটে তিনি ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’ নামে একটি কাপড়ের দোকান পরিচালনা করতেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানী বেগম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদের ভিত্তিতে টাকা লেনদেন করতেন। এই ব্যবসা নিয়ে একই এলাকার মুদি দোকানি নজরুল ইসলাম এবং তার ছেলে আশিক ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকাল ৮টার দিকে এই বিরোধ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রানী বেগম আশিকের বাবাকে গালাগালি করলে ক্ষিপ্ত আশিক ধারালো ছুরি দিয়ে রানীর ওপর হামলা চালান।
হামলার সময় রানীর ছেলে হৃদয় মিয়া এবং ওসমান হোসেন এগিয়ে গেলে তাদেরকেও আঘাত করা হয়। পরে আহত অবস্থায় রানী বেগমকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে বিকেলে তিনি মারা যান।
গ্রেপ্তারি ও মামলার তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রধান আসামি | আশিক ইসলাম ওরফে স্বপন (২৭) |
| পিতার নাম | নজরুল ইসলাম |
| গ্রামের ঠিকানা | কলমেশ্বর, গাছা থানা, গাজীপুর |
| গ্রেপ্তার স্থান | ময়মনসিংহের ভালুকা |
| গ্রেপ্তারের সময় | শনিবার রাত ২টা |
| মামলা দায়েরকারী | হৃদয় মিয়া (নিহতের ছেলে) |
| আদালতের ব্যবস্থা | কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, “আশিক যদি অপরাধে জড়িত থাকেন, তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি বর্তমানে সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নন।”
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ড মূলত আর্থিক বিরোধের ফলাফল। নিহত ব্যবসায়ীর পরিবার দাবি করেছে, তারা মূলত স্থানীয়ভাবে সুদের লেনদেনের বিরোধের কারণে এই হত্যার শিকার হয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, গাজীপুরে এমন সহিংস ঘটনা বিরল, তাই তারা দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাচ্ছেন।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে।
