আসন্ন জুন মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। এই মেগা টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ঘরের মাঠে আয়োজিত এই আসরের জন্য ঘোষিত দলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গতির ঝড় তুলতে সক্ষম পেসার ইসি ওং-এর অন্তর্ভুক্তি স্কোয়াডে বড় চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Table of Contents
ন্যাট সিভার-ব্রান্টের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ ইংল্যান্ড
স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলকে এই বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। এটি হতে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারের সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অধিনায়ক হিসেবে সিভার-ব্রান্টের উপস্থিতি দলকে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্ভরযোগ্য স্পিনার চার্লি ডিনকে।
দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক অধিনায়ক হিদার নাইট এবং আগ্রাসী ব্যাটার ড্যানি ওয়াট-হজ। নাইটের প্রজ্ঞা এবং ওয়াট-হজের দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। এছাড়াও উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে অ্যামি জোন্স এবং বিশ্বসেরা স্পিনার সোফি একলস্টোন দলের মূল শক্তি হিসেবে মাঠে নামবেন।
তারুণ্যের শক্তি: কোর্টিন-কলম্যান ও ইসি ওং
নির্বাচকরা এবার তারুণ্যের ওপর ব্যাপক আস্থা রেখেছেন। স্কোয়াডের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী লেগ-স্পিনার টিলি কোর্টিন-কলম্যান। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছেন তিনি, যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর এখনও অভিষেক হয়নি। তাঁর রহস্যময় স্পিন প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
এদিকে, পেস আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে দলে ফেরানো হয়েছে ইসি ওংকে। লরেন বেল এবং লরেন ফাইলারের সাথে মিলে তিনি ইংল্যান্ডের পেস ব্যাটারি পরিচালনা করবেন। এছাড়া অ্যালিস ক্যাপসি, ফ্রেয়া কেম্প এবং ড্যানি গিবসনের মতো অলরাউন্ডাররা দলে ভারসাম্য তৈরি করবেন।
ডাগ-আউটে শার্লট এডওয়ার্ডসের জাদুকরী উপস্থিতি
২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাফল্যের অন্যতম কারিগর হতে পারেন তাঁদের প্রধান কোচ শার্লট এডওয়ার্ডস। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে আয়োজিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি। এবার কোচ হিসেবে ঘরের মাঠে শিরোপা পুনরুদ্ধারের গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে। একজন সফল অধিনায়ক এবং খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অগাধ অভিজ্ঞতা ডাগ-আউটে ন্যাট সিভার-ব্রান্টদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ইংল্যান্ডের ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
| ক্রিকেটার | ভূমিকা |
| ন্যাট সিভার-ব্রান্ট (অধিনায়ক) | অলরাউন্ডার |
| চার্লি ডিন (সহ-অধিনায়ক) | অফ-স্পিনার |
| হিদার নাইট | ব্যাটার |
| ড্যানি ওয়াট-হজ | ব্যাটার |
| সোফি একলস্টোন | স্পিনার |
| অ্যামি জোন্স | উইকেটরক্ষক ব্যাটার |
| অ্যালিস ক্যাপসি | অলরাউন্ডার |
| সোফিয়া ডাঙ্কলি | ব্যাটার |
| লরেন বেল | পেসার |
| লরেন ফাইলার | পেসার |
| ড্যানি গিবসন | অলরাউন্ডার |
| ফ্রেয়া কেম্প | অলরাউন্ডার |
| লিনসি স্মিথ | স্পিনার |
| ইসি ওং | পেসার |
| টিলি কোর্টিন-কলম্যান | লেগ-স্পিনার |
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য
২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইংল্যান্ডের এই আগাম দল ঘোষণা তাঁদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই অংশ। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় কন্ডিশন সম্পর্কে ক্রিকেটারদের সম্যক ধারণা রয়েছে। নির্বাচকদের মতে, এই দলে অভিজ্ঞদের স্থিতিশীলতা এবং তরুণদের চপলতা—উভয়ই বিদ্যমান।
উল্লেখ্য যে, অন্য কোনো দেশ এখনও পর্যন্ত তাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না করলেও ইংল্যান্ড দ্রুত স্কোয়াড ঘোষণা করে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ করে দিয়েছে। ২০০৯ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি শিরোপা নিজেদের শোকেসে তোলার লক্ষ্যে ১ জুন থেকে মাঠে নামবে ন্যাট সিভার-ব্রান্টের দল। শার্লট এডওয়ার্ডসের রণকৌশল এবং সিভার-ব্রান্টের মাঠের নৈপুণ্যের সমন্বয় ঘটলে ইংল্যান্ড এবার শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হবে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
