২০২৬ সালের ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস ভারতীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য আবারও মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলসের পিকক থিয়েটারে অনুষ্ঠিত এই ভव्य অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেতার বাদক অনুষ্কা শঙ্কর প্রত্যাশিত জয় অধরা রইলেন। এ বছরের এই আসরে তার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়েনি, যা তার মোট ১৩টি গ্র্যামি মনোনয়নের ইতিহাসকে আরও নজরকাড়া করে তুলেছে।
অনুষ্কা শঙ্করের ১২ ও ১৩তম মনোনয়ন এসেছে তার ‘চ্যাপ্টার থ্রি: উই রিটার্ন টু লাইট’ অ্যালবাম এবং ‘ডেব্রেক’ গানটির জন্য। তবে তিনি আন্তর্জাতিক জনপ্রিয় তারকা ব্যাড বানি-এর ‘ইওও’ গানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পরাজিত হন। তিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, এবং সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ভারত সফরে ব্যস্ত।
অনুষ্কার পাশাপাশি ভারতীয় সঙ্গীতের অন্য প্রতিনিধি ছিলেন শঙ্কর মহাদেবন। তার ব্যান্ড ‘শক্তি’-এর লাইভ অ্যালবাম ‘মাইন্ড এক্সপ্লোশন’-এর জন্য তিনি দুটি মনোনয়ন অর্জন করেন এবং সশরীরে উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক সংগীতজ্ঞদের সঙ্গে交流 করেন। ইন্দো-আমেরিকান জ্যাজ সুরকার ও পিয়ানোবাদক চারু সুরি তার ‘সায়ান’ অ্যালবামের জন্য একটি মনোনয়ন পান।
এবারের গ্র্যামির অন্যতম চমক ছিল কিংবদন্তি পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের জয়ের খবর। তার তথ্যচিত্র ‘মিউজিক ফর জন উইলিয়ামস’ সেরা সংগীত বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে। ইতিমধ্যে এমি, অস্কার ও টনি পুরস্কার জিতলেও গ্র্যামি ছিল বাকি, যা এবার তিনি অর্জন করলেন।
অন্য উল্লেখযোগ্য জয়:
রুফান ওয়েনরাইট ‘দলাই লামা’ অডিও বুকের জন্য ন্যারেটিভ বিভাগে প্রথম গ্র্যামি জিতে কৌতুক করে বলেন, “আমি কিন্তু দলাই লামা নই!”
কে-পপ ব্যান্ড ডেমন হান্টার্স-এর ‘গোল্ডেন’ গানটি ভিজ্যুয়াল মিডিয়া বিভাগে সেরা গান নির্বাচিত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সংগীত পরিচালক ড্যারেন ক্রিস-এর সঞ্চালনায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি ৮৬টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করে এবং ছিল বছরের অন্যতম আলোচিত সংগীত ইভেন্ট।
নিচের টেবিলে এ বছর ভারতের মনোনীত শিল্পীদের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
| শিল্পী | কাজ / অ্যালবাম | মনোনয়ন সংখ্যা | উপস্থিতি | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| অনুষ্কা শঙ্কর | চ্যাপ্টার থ্রি: উই রিটার্ন টু লাইট / ডেব্রেক | ২ | অনুপস্থিত | জয় অধরা |
| শঙ্কর মহাদেবন | শক্তি – মাইন্ড এক্সপ্লোশন | ২ | উপস্থিত | জয় অধরা |
| চারু সুরি | সায়ান | ১ | অনুপস্থিত | জয় অধরা |
এবারের গ্র্যামি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় সঙ্গীতের পরিচিতি আরও দৃঢ় হলো। যদিও আনুষ্কার জন্য ১৩তম মনোনয়নেও জয় হয়নি, তার প্রতিভা ও অবদানকে বিশ্ব মঞ্চে স্বীকৃতি মিলেছে।
