জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি সম্প্রতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ করা সঙ্গীতশিল্পী ও শিল্পীদের অবহেলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণে তাদের অবদান অপরিসীম হলেও, ন্যান্সি দাবি করেন, এই পেশাজীবীরা এখনও মৌলিক সুবিধা ও সরকারি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত।
সোমবার রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি বার্তায় ন্যান্সি সরাসরি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, চলচ্চিত্র সঙ্গীতশিল্পীদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে বিবেচনা করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও মিউজিক ডিরেক্টরদের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) যে সুবিধা প্রদান করে, তার বাইরে বহু শিল্পী এখনও থেকে যান।
ন্যান্সি বলেন, “আমরা চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অংশ, তবুও বিএফডিসির সংস্থা হিসেবে মূল্যায়নে আমাদের অগ্রাহ্য করা হয়। কর্তৃপক্ষের উচিত শিল্পীদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজের পরিবেশ ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, বিএফডিসি প্রাঙ্গণে সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য নির্ধারিত আসন, বিশ্রামকক্ষ এবং খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার এই আবেদন চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্ত সকল সঙ্গীতশিল্পীর যৌথ কণ্ঠকে প্রতিফলিত করছে এবং আশা প্রকাশ করেন, সরকারী সমর্থনের মাধ্যমে শিল্পীরা যথাযথ স্বীকৃতি ও বাস্তব সুবিধা পাবে, যাদের অবদান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ঐতিহ্যের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।
নিচের টেবিলে চলচ্চিত্র-সংযুক্ত সঙ্গীতশিল্পীদের প্রধান দাবি ও বর্তমান অবস্থার তুলনা দেওয়া হলো:
| সুবিধা | বর্তমান পরিস্থিতি | প্রস্তাবিত ব্যবস্থা |
|---|---|---|
| আসনের ব্যবস্থা | সীমিত ও অস্বস্তিকর | বিএফডিসির অভ্যন্তরে পৃথক আসন |
| বিশ্রাম ও খাদ্য | অনুপস্থিত | পর্যাপ্ত বিশ্রামকক্ষ ও খাবারের সুবিধা |
| স্বীকৃতি ও মর্যাদা | সীমিত | প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান |
| আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা | আংশিক | পূর্ণাঙ্গ সহায়তা প্যাকেজ |
ন্যান্সি বলেন, “আমরা চাই আমাদের কাজের সঠিক স্বীকৃতি এবং ন্যায্য সুবিধা। এটি শুধুমাত্র শিল্পীদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের স্থায়ী উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।”
তিনি আরও বলেন যে, সঙ্গীতশিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হলে শিল্পের মধ্যে সমন্বয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং চলচ্চিত্রের সৃজনশীল মানও উন্নীত হবে। ন্যান্সির এই আহ্বান প্রতিফলিত করছে চলচ্চিত্র সঙ্গীতশিল্পীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী আন্দোলন, যারা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে তাদের যোগ্য স্থান ও স্বীকৃতি দাবি করছেন।
