ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগে কর্মরত ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার আশায় কিছুদিন আগে তাকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোক ও নীরবতা নেমে আসে।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, মো. আসাদুজ্জামান ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান, দায়িত্বশীল ও সৎ কর্মকর্তা। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি উপপরিদর্শক হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হন। বিশেষ করে প্রসিকিউশন বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করে তিনি আদালত সংশ্লিষ্ট মামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দেন। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, তিনি কখনো কোনো বিতর্ক বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র এবং এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার ছোট আজলদি গ্রামে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও শূন্যতা।
কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত তথ্য সংক্ষেপে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | মো. আসাদুজ্জামান |
| পদবী | ইন্সপেক্টর |
| বিভাগ | প্রসিকিউশন বিভাগ |
| কর্মস্থল | ঢাকা মহানগর পুলিশ |
| মৃত্যুর স্থান | ব্যাংকক, থাইল্যান্ড |
| মৃত্যুর সময় | শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক |
| পারিবারিক অবস্থা | স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা |
| গ্রামের বাড়ি | কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া, ছোট আজলদি |
সহকর্মীরা জানান, তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ও বিনয়ী একজন কর্মকর্তা। আদালত সংশ্লিষ্ট কাজ এবং মামলার আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনায় তার দক্ষতা ছিল প্রশংসনীয়। দায়িত্ব পালনে তিনি সবসময় পেশাদার মান বজায় রাখতেন এবং তরুণ পুলিশ সদস্যদের জন্য ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎস।
তার মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, পুরো পুলিশ প্রশাসনই একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে হারালো বলে মনে করছেন সহকর্মীরা। বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। পুলিশ বিভাগে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেন।
